পুলিশের জালে তৃণমূলের যুব সভাপতি !

এদিকে, শেখ আলাউদ্দিনের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শনিবার সকাল থেকেই আদালত চত্বরে এবং পাণ্ডবেশ্বরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর আলোচনা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সাধারণ মানুষ তোলাবাজি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছিলেন। অবশেষে পুলিশের এই পদক্ষেপে মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন বলে দাবি তাদের। অন্যদিকে, তৃণমূলের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলেও তাঁদের বক্তব্য। তবে গোটা বিষয়টি এখন বিচারাধীন হওয়ায় আদালতের রায়ের উপরই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন জানানো হতে পারে। কারণ, ভোট পরবর্তী হিংসা এবং তোলাবাজির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে চাইছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক গ্রেপ্তারি নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণকেও প্রভাবিত করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়েই পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। পাণ্ডবেশ্বরের এই ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া চলবে, তবে আদালতেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্য এবং তিনি কতটা দোষী। এই মুহূর্তে শেখ আলাউদ্দিনকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার পর আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতির উপরও নজর রাখছে প্রশাসন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাণ্ডবেশ্বর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়লেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এখন দেখার, তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কিনা এবং এই মামলায় আরও কারও নাম উঠে আসে কি না। তবে আপাতত যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি শেখ আলাউদ্দিনের গ্রেপ্তারিকে ঘিরে পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
