খোট্টাডিহী কোলিয়ারিতে ‘সানডে’ চালুর দাবিতে BMS-এর ধরনা

মিলন ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, অতীতে কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ এবং তৎকালীন শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে সমঝোতার কারণে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছিল। সেইসব সিদ্ধান্তের খেসারত এখনও শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে ভারতীয় মজদুর সংঘ তা মেনে নেবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যতদিন না কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ ‘সানডে’ পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, ততদিন তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটতে প্রস্তুত রয়েছে বিএমএস। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অন্যদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বক্তব্য, খনির মতো কঠোর ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিনই নানা শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়। সেই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা সুবিধা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব সরাসরি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার উপর পড়বে। তাই কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের উচিত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা। এদিকে আন্দোলনের জেরে কোলিয়ারি এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে বলে জানিয়েছে বিএমএস নেতৃত্ব। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। শ্রমিক মহলের একাংশের মতে, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ ‘সানডে’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ নিতে পারে। ফলে এখন সকলের নজর কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। খোট্টাডিহী কোলিয়ারির এই আন্দোলন শুধু একটি কর্মসংক্রান্ত দাবি নয়, বরং শ্রমিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের দাবি কত দ্রুত মেনে নেওয়া হয় এবং কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তার উপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি। আপাতত ‘সানডে’ চালুর দাবিতে আন্দোলনে অনড় ভারতীয় মজদুর সংঘ এবং ইসিএল শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলেই জানিয়েছে সংগঠনের নেতৃত্ব।
