নবদ্বীপে সুপারি ব্যবসায়ীর বাড়িতে ED হানা !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
নদিয়া : রাজ্যে ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শুক্রবার সকালেই নদিয়ার নবদ্বীপে এক সুপারি ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দিল প্রয়োগকারী সংস্থা বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ভোরবেলা পাঁচটি গাড়িতে করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা পৌঁছে যান নবদ্বীপের মণিপুর এলাকায় অবস্থিত ব্যবসায়ী অশোক অধিকারীর বাড়িতে। তাঁদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ান এবং ব্যাংকের প্রতিনিধিরাও। সকাল থেকেই গোটা এলাকাজুড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য ও কৌতূহল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাতটা নাগাদ ইডির দুটি পৃথক তদন্তকারী দল ব্যবসায়ীর বাড়িতে পৌঁছায়। বাড়িতে ঢোকার পরই শুরু হয় নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথির খুঁটিয়ে পরীক্ষা। একই সঙ্গে বাড়ির বিভিন্ন অংশ এবং সংলগ্ন গুদাম বা গোডাউনেও তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি চলাকালীন গোটা বাড়ি ঘিরে রাখেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির বাইরে কড়া নজরদারি চালানো হয় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়। বহু মানুষ বাড়ির সামনে ভিড় জমালেও কাউকেই তদন্তের এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ীর পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। যদিও ইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তদন্তের প্রকৃত কারণ বা কী ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, অশোক অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে সুপারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, আসাম ও ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তাঁর ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিশেষ করে আসামের গৌহাটি এবং ত্রিপুরায় তাঁর ব্যবসা বিস্তৃত বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। সেই ব্যবসার আর্থিক লেনদেন, বিনিয়োগ এবং ব্যাংকিং সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। ইডির তল্লাশি অভিযানে ব্যাংকের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। সাধারণত ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন, লকার কিংবা আর্থিক নথি যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে ব্যাংক কর্মীদের উপস্থিত রাখা হয়। এদিনও সেই নিয়ম মেনেই ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত চালান আধিকারিকরা।
নবদ্বীপে সুপারি ব্যবসায়ীর বাড়িতে ED হানা !
সুপারি ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির অভিযান, খতিয়ে দেখা হচ্ছে আর্থিক নথি

তদন্তকারী সংস্থা বাড়ির পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নথি, হিসাবপত্র, কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও সূত্রের খবর। কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ইলেকট্রনিক তথ্য উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অশোক অধিকারী এলাকায় একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। বহু বছর ধরেই তিনি সুপারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর ব্যবসার পরিধি রাজ্যের বাইরে বিস্তৃত হওয়ায় এই তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই জানতে চান, কী কারণে এত বড় সংখ্যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী সেখানে পৌঁছেছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি ইডির আধিকারিকরা। তল্লাশি চলাকালীন বাড়ির ভিতরে দীর্ঘ সময় ধরে নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। বাড়ির সদস্যদেরও বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ব্যবসার উৎস, অর্থের লেনদেন, বিভিন্ন রাজ্যে ব্যবসার বিস্তার এবং আর্থিক নথি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত একাধিক মামলায় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে ইডি। সেই ধারাবাহিকতাতেই নবদ্বীপে এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন নথি যাচাই করে আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং তার বৈধতা খতিয়ে দেখছেন। যদিও এই মুহূর্তে তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। তদন্তের স্বার্থে ইডি এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। আগামী দিনে তল্লাশি থেকে কী তথ্য উঠে আসে এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। শুক্রবার সকাল থেকে চলা এই ইডি অভিযানে নবদ্বীপের মণিপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তদন্ত শেষ হওয়ার পর ইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হলে গোটা ঘটনার আরও স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ইডির আধিকারিকরা বাড়ি, গোডাউন এবং ব্যবসা সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram