This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
উঃ ২৪ পরগনা : নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি চত্বরে উদ্ধার করে রাখা বিপুল পরিমাণ অবৈধ বাজি ও বারুদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সকাল প্রায় সাড়ে ৬টা নাগাদ পরপর একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তের মধ্যেই ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে ঘুম ভেঙে আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্কের পরিবেশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই নারায়ণপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বাজি ও বারুদ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরে সেই উদ্ধার হওয়া বাজি ও বিস্ফোরক সামগ্রী নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি চত্বরে অবস্থিত একটি গোডাউনে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার ভোরে আচমকাই সেই গোডাউন থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একের পর এক বিস্ফোরণ শুরু হয়। গোডাউনের ভিতরে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ বাজিতে আগুন লেগে পরপর বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের বহু বাড়ি কেঁপে ওঠে এবং কয়েকশো মিটার দূর থেকেও সেই শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোডাউনের বিভিন্ন অংশে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গোডাউনের উপরের তলায় একটি পরিবার বসবাস করছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের আরও অভিযোগ, গোডাউনের বাইরে একটি টিনের ড্রামের মধ্যেও বারুদ রাখা ছিল। আগুন লাগার পর সেই ড্রামে থাকা দাহ্য পদার্থে আগুন ধরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণের শব্দে গোটা এলাকা প্রকম্পিত হতে থাকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের দুটি ইঞ্জিন। আগুন নেভানোর কাজে নামেন দমকল কর্মীরা। তবে গোডাউনের ভিতরে বিপুল পরিমাণ বাজি, বারুদ ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। একের পর এক ছোট-বড় বিস্ফোরণ চলতে থাকায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজ চালাতে হয়।
নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে উদ্ধার করা বাজি-বারুদে বিস্ফোরণ, কেঁপে উঠল এলাকা !
দীর্ঘ চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। যদিও বিস্ফোরণের জেরে গোডাউনের আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য অবিস্ফোরিত বাজি, পোড়া বারুদের অংশ এবং বিস্ফোরকের টুকরো। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকার যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পুলিশ ও দমকল কর্মীরা গোটা এলাকা ঘিরে রেখে উদ্ধার ও নিরাপত্তার কাজ চালান। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, এত বিপুল পরিমাণ বাজি ও বারুদ আবাসিক এলাকার এত কাছে কেন সংরক্ষণ করা হয়েছিল এবং তা নিরাপত্তা বিধি মেনে রাখা হয়েছিল কি না। তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে হয়তো এমন বিস্ফোরণের ঘটনা এড়ানো যেত। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বাজি ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হল, কোনও অসাবধানতা ছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরও ঘটনাস্থলে ডাকা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা গোডাউনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিস্ফোরক সংরক্ষণের পদ্ধতি, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখবেন। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের সময় গোডাউনের ভিতরে বা আশপাশে কোনও ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গোডাউনে মজুত থাকা বাজি ও বারুদের প্রকৃতি, সংরক্ষণের পরিবেশ এবং আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ জানতে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হবে। দমকল কর্তৃপক্ষও আলাদা করে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথিপত্র পরীক্ষা করা হবে এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কোনও প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয়দের মতে, বিস্ফোরণের সময় যদি এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেশি থাকত বা গোডাউনের উপরের তলার পরিবারটি সময়মতো বেরিয়ে আসতে না পারত, তাহলে বড়সড় প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যেত না। সব মিলিয়ে, নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি চত্বরে উদ্ধার করে রাখা অবৈধ বাজি ও বারুদে এই বিস্ফোরণ নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। এখন তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ কী ছিল এবং নিরাপত্তা বিধি মানার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে প্রশাসন, তদন্তকারী সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের।