ECL-এর পরপর বন্ধ আবাসনে চুরি !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
অণ্ডাল : কাজোড়া গোলাই এলাকায় পরপর একাধিক বন্ধ ECL আবাসনে চুরির ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার গভীর রাতে প্রায় আধা ডজন বন্ধ কোয়ার্টারে চুরির অভিযোগ উঠেছে। একসঙ্গে এতগুলি আবাসনে চুরির ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এলাকায়। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে পরপর এতগুলি আবাসনে ঢুকে চুরি করল দুষ্কৃতীরা? আর এই ঘটনার পিছনে কি কোনও বড় চক্র রয়েছে? গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অণ্ডালের কাজোড়া গোলাই এলাকায় ECL-এর একাধিক আবাসন দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। অনেক কোয়ার্টারেই বর্তমানে কোনও বাসিন্দা থাকেন না। আবার কয়েকটি কোয়ার্টারের বাসিন্দারা কাজ কিংবা অন্য কোনও কারণে বাইরে ছিলেন। অভিযোগ, সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে রবিবার গভীর রাতে একের পর এক বন্ধ আবাসনে ঢুকে চোরেরা চুরি করে। সোমবার সকালে বাড়ি ফিরে বিষয়টি প্রথম নজরে আসে কয়েকজন বাসিন্দার। বাড়ির দরজা বা তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। এরপর ঘরের ভিতরে ঢুকে বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় দেখতে পান বাসিন্দারা। চুরির বিষয়টি জানাজানি হতেই দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। একটি নয়, পরপর একাধিক বন্ধ কোয়ার্টারে চুরির অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয় স্থানীয়দের মধ্যে। কারণ, সাধারণত কোনও একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটলে সেটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু একই রাতে পাশাপাশি একাধিক আবাসনে চুরির অভিযোগ ওঠায় এর পিছনে পরিকল্পিত কোনও চক্র কাজ করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। চুরির অভিযোগ ওঠা আবাসনগুলিতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। কোথা দিয়ে দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকেছিল, কীভাবে তালা বা দরজা ভাঙা হয়েছে, কী কী জিনিস খোয়া গিয়েছে—সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলছে। যাঁরা ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত কারা এলাকায় যাতায়াত করেছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এলাকার CCTV ফুটেজকে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, CCTV ক্যামেরায় দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছে। ফুটেজে তাঁদের গতিবিধি পুলিশের নজরে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওই দুই ব্যক্তির হাতে তলোয়ারের মতো দেখতে কোনও অস্ত্রসদৃশ বস্তু ছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের।
ECL-এর পরপর বন্ধ আবাসনে চুরি !
অণ্ডালের কাজোড়া গোলাইয়ে পরপর ECL কোয়ার্টারে চুরি ! CCTV-তে ২ সন্দেহভাজন, হাতে অস্ত্রসদৃশ বস্তু

তবে CCTV ফুটেজে দেখা ওই বস্তুটি আদৌ কোনও ধারালো অস্ত্র কি না, নাকি অন্য কোনও জিনিস—তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে এই মুহূর্তে কাউকে দুষ্কৃতী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না। পুলিশ CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে তাঁদের গতিবিধি এবং ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় আগে ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটলেও একই রাতে একসঙ্গে এতগুলি বন্ধ ECL কোয়ার্টারে চুরির ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে এই ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে যেসব আবাসন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, সেগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, অনেক কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে থাকায় সেগুলিকে দুষ্কৃতীরা সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নিতে পারে। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, পুলিশ তদন্ত শুরু করায় দ্রুত ঘটনার কিনারা হওয়ার আশায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। CCTV ফুটেজের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্যান্য ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। চুরির ঘটনায় কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। এখনও পর্যন্ত ঠিক কী কী সামগ্রী চুরি হয়েছে এবং মোট কত টাকার সম্পত্তি খোয়া গিয়েছে, তার সম্পূর্ণ হিসাব সামনে আসেনি। কারণ, কয়েকটি কোয়ার্টারের বাসিন্দারা বাইরে থাকায় তাঁরা ফিরে এসে ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র পরীক্ষা করার পরই চুরির প্রকৃত পরিমাণ জানা সম্ভব হবে। তবে একই রাতে একাধিক বন্ধ আবাসনে চুরির অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি নিছক চুরি, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও পরিকল্পনা রয়েছে—তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, রাতের সময় বন্ধ আবাসনগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হোক। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা থাকা ECL কোয়ার্টারগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। এই মুহূর্তে পুলিশের তদন্ত কোন পথে এগোয়, CCTV ফুটেজে দেখা দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় কি না, এবং চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার হয় কি না—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা কাজোড়া গোলাই এলাকা। একইসঙ্গে তদন্তের পর CCTV-তে দেখা অস্ত্রসদৃশ বস্তুটি আসলে কী ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, যদি সত্যিই দুষ্কৃতীদের হাতে কোনও ধারালো অস্ত্র থেকে থাকে, তাহলে ঘটনাটি আরও গুরুতর মাত্রা পেতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও বিষয়েই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। পরপর একাধিক বন্ধ ECL আবাসনে চুরির ঘটনায় অণ্ডালের কাজোড়া গোলাই এলাকায় যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। এখন দেখার, CCTV ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ কত দ্রুত সন্দেহভাজনদের কাছে পৌঁছতে পারে এবং এই ধারাবাহিক চুরির ঘটনার আসল রহস্য কত দ্রুত সামনে আসে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram