কোলিয়ারিতে দুষ্কৃতী হানা, নিরাপত্তারক্ষীদের বেঁধে লুটপাট !

যদিও CISF-এর ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এখনও সামনে আসেনি। পুরো ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় দুর্বল ছিল, দুষ্কৃতীরা কোন পথে ঢুকেছিল এবং কীভাবে পালিয়ে গেল—সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে অন্ডাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ কোলিয়ারির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে। নিরাপত্তারক্ষীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুষ্কৃতীদের গতিবিধি সম্পর্কে সূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার CCTV ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ফুটেজ তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফুটেজে দুষ্কৃতীদের গতিবিধি, তাঁদের সংখ্যা, পোশাক এবং ব্যবহৃত সামগ্রী সম্পর্কে কোনও সূত্র পাওয়া যায় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে পুলিশের। CCTV ফুটেজের পাশাপাশি কোলিয়ারির প্রবেশ এবং বেরোনোর পথগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুষ্কৃতীরা কোন রাস্তা ব্যবহার করে এসেছিল এবং কোন পথে পালিয়েছে, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আশপাশের এলাকায় থাকা অন্যান্য CCTV ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই কাজোড়া এলাকায় ECL-এর একাধিক আবাসনে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতারও করেছিল পুলিশ। তার পরেই ফের ECL-এর কোলিয়ারিতে এই ধরনের দুষ্কৃতী হানার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে গোটা খনি অঞ্চলে। শ্রমিকদের একাংশের আশঙ্কা, চুরি বা কেবল কাটার উদ্দেশ্যে সক্রিয় কোনও চক্র হয়তো খনি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখছে। যদিও পড়াশকোল ইস্ট কোলিয়ারির ঘটনার সঙ্গে আগের চুরির কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ তদন্ত করে সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের কাছে এখন বেশ কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুষ্কৃতীদের সংখ্যা ঠিক কত ছিল? তারা আগে থেকেই কোলিয়ারির ভিতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানত কি না? নিরাপত্তারক্ষীদের গতিবিধি সম্পর্কে তাদের কাছে কোনও তথ্য ছিল কি না? কোলিয়ারির কোন অংশে তামার কেবল রাখা রয়েছে, সে সম্পর্কে তারা কীভাবে জানতে পারল? এবং হামলার পর তারা কী কী সামগ্রী নিয়ে পালিয়েছে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অন্ডাল থানার পুলিশ। একইসঙ্গে, দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিও উঠেছে শ্রমিক মহলে। ঘটনাটি শুধু একটি চুরির ঘটনা নয়, এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে কোলিয়ারির নিরাপত্তা। কারণ নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাঙচুর করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবে দেখা হবে। কোলিয়ারির ভিতরে কর্মরত শ্রমিক এবং নিরাপত্তারক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শ্রমিকদের দাবি, রাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। কোলিয়ারির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি, CCTV ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করার দাবিও উঠেছে। সব মিলিয়ে অন্ডালের পড়াশকোল ইস্ট কোলিয়ারিতে রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতী হানার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর, তিনজনকে হাত-পা বেঁধে আটকে রাখা, মোবাইল-নগদ টাকা-এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। প্রাথমিকভাবে তামার কেবল চুরির উদ্দেশ্যেই এই হামলা বলে অনুমান করা হলেও, ঘটনার পিছনে আরও কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। CCTV ফুটেজ ইতিমধ্যেই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কয়েকদিন আগের ECL আবাসনে চুরির ঘটনার পর ফের কোলিয়ারিতে হামলার ঘটনায় খনি অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, CCTV ফুটেজ থেকে দুষ্কৃতীদের কোনও পরিচয় সামনে আসে কি না এবং এই ঘটনায় জড়িতদের কবে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়—সেদিকেই নজর রয়েছে শ্রমিক মহল থেকে শুরু করে গোটা খনি অঞ্চলের।
