This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
অন্ডাল : পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে আন্দোলনের পথে নামলেন কোলিয়ারি আবাসনের বাসিন্দারা। শনিবার সকালে অন্ডালের সিদুলি কোলিয়ারিতে কার্যত থমকে গেল উৎপাদন। সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা খনির কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভে সামিল হন। দীর্ঘদিন ধরে জল সমস্যার অভিযোগ জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিদুলি কোলিয়ারি সংলগ্ন আবাসনে বহুদিন ধরেই নিয়মিত পানীয় জলের সরবরাহ হচ্ছে না। কখনও জল আসে অনিয়মিতভাবে, আবার কখনও একেবারেই আসে না। ফলে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বিশেষ করে তীব্র গরমের এই সময়ে জল সঙ্কট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানীয় জল থেকে শুরু করে রান্না, দৈনন্দিন ব্যবহার—সব কিছুতেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষজন।বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। অস্থায়ীভাবে কখনও ট্যাঙ্কার পাঠানো হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলেই দাবি তাঁদের। ফলে বাধ্য হয়েই এদিন আন্দোলনের পথে নামেন স্থানীয়রা। সকাল থেকেই কোলিয়ারির প্রবেশপথে জড়ো হতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। এরপর খনির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং দ্রুত জল সমস্যার সমাধানের দাবি জানান। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, “জল আমাদের মৌলিক প্রয়োজন। এতদিন ধরে সমস্যায় ভুগছি, আর নয়। অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান করতে হবে।” অনেকেই হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন, যেখানে জল সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি তুলে ধরা হয়। এই আন্দোলনের জেরে সিদুলি কোলিয়ারির উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় প্রায় দু’ঘণ্টার জন্য। খনির কাজ থমকে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। কর্মরত শ্রমিকরাও এই পরিস্থিতিতে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। ফলে গোটা এলাকায় এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্রথমে তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। যদিও শুরুতে আন্দোলনকারীরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন। তাঁদের একটাই দাবি—জল সমস্যার দ্রুত সমাধান।
জল সঙ্কটে ক্ষোভে ফুঁসছে সিদুলি কোলিয়ারি, উৎপাদন বন্ধ রেখে বাসিন্দাদের বিক্ষোভ
পরে ইসিএল (Eastern Coalfields Limited)-এর এক আধিকারিক ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সমস্যার গুরুত্ব স্বীকার করেন। আধিকারিক জানান, জল সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত মেরামত করার কাজ শুরু করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, শনিবার থেকেই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং খুব শীঘ্রই জল সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। এই আশ্বাসের পর ধীরে ধীরে বিক্ষোভ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। খনির কাজও পুনরায় শুরু হয়। তবে বাসিন্দারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই আশ্বাস যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। বাস্তবে দ্রুত কাজ শুরু করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি, ভবিষ্যতেও যদি পানীয় জলের সমস্যা মেটানো না হয়, তাহলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ রেখে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। এই নিয়ে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পাঞ্চলগুলিতে এই ধরনের মৌলিক পরিষেবার অভাব দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে একদিকে কয়লা উৎপাদন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেখানে ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়া একটি বড় বৈপরীত্য। এই ঘটনায় আবারও সামনে এল সেই বাস্তব চিত্র। যেখানে উন্নয়নের দাবি থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলি অনেক সময়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। ফলে ক্ষোভ জমতে জমতে একসময় বিস্ফোরণের রূপ নেয়, যেমনটা দেখা গেল সিদুলি কোলিয়ারিতে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। জল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, পানীয় জলের দাবিতে সিদুলি কোলিয়ারিতে এই আন্দোলন শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং বৃহত্তর পরিকাঠামোগত ঘাটতির দিকেও আঙুল তুলছে। এখন দেখার, কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।