This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে ফের নতুন মোড়। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালিঘাট তৃণমূল। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে নতুন তৃণমূল শিবির। সেই নবগঠিত সংগঠনকে ঘিরেই এবার নতুন জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল খুব শীঘ্রই ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে নবগঠিত সংগঠনের বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমানেও বড় সাংগঠনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি ব্যক্তিগত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তাঁর পদত্যাগের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। সূত্রের দাবি, পদত্যাগের কিছুদিনের মধ্যেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। সেই বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে যে, তিনিও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। এখন রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, নবগঠিত তৃণমূল সংগঠনের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতির দায়িত্ব নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হাতেই তুলে দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ একদিকে বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডল এবং অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমানে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী—এই দুই অভিজ্ঞ নেতাকে সামনে রেখেই সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিতে পারে ঋতব্রত শিবির। যদিও এই মুহূর্তে এই সমস্ত তথ্যের কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কোনও নেতাও প্রকাশ্যে এই বিষয়ে মুখ খোলেননি। ফলে পুরো বিষয়টি এখনও রাজনৈতিক সূত্রভিত্তিক জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।
জেলা সভাপতির পদে অনুব্রত-নরেন ! নতুন সমীকরণে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই জল্পনা সত্যি হয়, তাহলে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ অনুব্রত মণ্ডল দীর্ঘদিন বীরভূমের সংগঠনের অন্যতম মুখ ছিলেন। জেলার সাংগঠনিক কাঠামো, বুথ স্তরের নেতৃত্ব এবং কর্মীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। একইভাবে পশ্চিম বর্ধমানেও নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে সাংগঠনিক বিস্তার—সব ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ফলে তিনি যদি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একাধিক নেতা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন দলেই সাংগঠনিক রদবদল, নতুন জোট, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ছবি সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই অনুব্রত মণ্ডল ও নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে ঘিরে এই জল্পনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কি এবার জেলা স্তরে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে? অভিজ্ঞ নেতাদের সামনে এনে কি সংগঠনকে আরও বিস্তৃত করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য সময়ই দেবে। এদিকে দুই জেলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, যদি এই দুই নেতা নতুন দায়িত্ব পান, তাহলে সংগঠনের ভিত আরও মজবুত হতে পারে। আবার বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিনি কবে নতুন জেলা কমিটির ঘোষণা করেন, আদৌ অনুব্রত মণ্ডল ও নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। সব মিলিয়ে, অনুব্রত মণ্ডল ও নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে ঘিরে শুরু হওয়া এই জল্পনা ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা লিখিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। ফলে রাজনৈতিক সূত্রে ভেসে ওঠা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে।