This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
BEAURO REPORT : বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সুপার এল নিনো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা, কোথাও ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এই বৈশ্বিক আবহাওয়াগত পরিবর্তনের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলেও। গত কয়েকদিন ধরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর আগেই একাধিক জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল। সেই পূর্বাভাস মেনেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মিরিক-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। রাতভর বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং একাধিক এলাকায় ধসের ঘটনাও ঘটে। বিভিন্ন জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। বন্ধ হয়ে যায় ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশও। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে শুক্রবার ভোরে। প্রবল বর্ষণের জেরে বালাসন নদীর জলস্তর আচমকাই বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়। নদীর তীব্র স্রোতে দুধিয়ায় নির্মিত অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুটি সম্পূর্ণ ভেসে যায়। এর ফলে দুধিয়া হয়ে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে প্রকৃতির রুদ্ররূপ ! বালাসনের স্রোতে ভেসে গেল দুধিয়ার সেতু
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভয়াবহ বৃষ্টি ও বন্যার জেরে দুধিয়ার মূল সেতুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়েছিল। এরপর প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অস্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মিরিক, সুখিয়াপোখরি ও সংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা ছিল এই সেতু। কিন্তু এবারের প্রবল বর্ষণে সেই কাঠামোও টিকতে পারল না।
এদিকে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, শিলিগুড়ি শহর ও সংলগ্ন একাধিক নিচু এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নদীর জল ক্রমশ গ্রামাঞ্চলের দিকে ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে নদীপারের বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনার পিছনে শুধুমাত্র মৌসুমি বৃষ্টিকে দায়ী করলে চলবে না। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত সুপার এল নিনো বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলে। এর ফলে কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, আবার কোথাও খরার পরিস্থিতি তৈরি হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা জমা হওয়ায় ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনাও আরও তীব্র হয়ে উঠছে। উত্তরবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা নয়, বরং পরিবর্তিত জলবায়ুর এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।