This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : জাতীয় সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার আরও কঠোর হল দুর্গাপুর ট্রাফিক গার্ড। বুধবার সকাল থেকেই দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে শুরু হয় বিশেষ ট্রাফিক অভিযান। মূল লক্ষ্য ছিল, জাতীয় সড়কে বেআইনিভাবে চলাচলকারী টোটোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমিয়ে আনা। অভিযান চলাকালীন ট্রাফিক পুলিশের একাধিক টিম জাতীয় সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। এরপর একের পর এক টোটো থামিয়ে চালকদের নথিপত্র, গাড়ির বৈধতা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, বীমা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। যেসব টোটো চালকের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাঁদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একাধিক চালককে জরিমানা করা হয় এবং নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকটি টোটো আটক করে ট্রাফিক পুলিশ। ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জাতীয় সড়ক মূলত দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য। সেখানে কম গতির টোটো চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে হঠাৎ লেন পরিবর্তন, নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে রাস্তা পার হওয়া কিংবা যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার মতো ঘটনা বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। পুলিশের দাবি, অতীতেও জাতীয় সড়কে টোটো জড়িত একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনা সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তার পাশাপাশি অন্যান্য যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। অভিযানের সময় ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে টোটো চালকদের সতর্কও করা হয়। স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জাতীয় সড়কে টোটো নিয়ে চলাচল করা যাবে না। ভবিষ্যতে এই নিয়ম অমান্য করলে শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী টোটো বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
NH-19-এ টোটো নিয়ে উঠলেই বিপদ ! অভিযান চালিয়ে কড়া ব্যবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, শুধুমাত্র একদিনের অভিযানেই এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিনেও নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। যাতে জাতীয় সড়কে কোনওভাবেই বেআইনি বা ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল না করতে পারে। অন্যদিকে, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনেক টোটো চালক জাতীয় সড়ক এড়িয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে শুরু করেন। তবে কিছু চালকের বক্তব্য, যাত্রী পরিবহনের সুবিধার জন্য অনেক সময় বাধ্য হয়েই জাতীয় সড়কে উঠতে হয়। যদিও ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না এবং আইন সবার জন্য সমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সড়কে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, লরি এবং অন্যান্য ভারী যানবাহনের সঙ্গে ধীরগতির টোটোর চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে শুধু টোটোর যাত্রী নয়, অন্যান্য গাড়ির চালকরাও ঝুঁকির মুখে পড়েন। তাই এই ধরনের অভিযান সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাফিক পুলিশ আরও জানিয়েছে, শুধুমাত্র টোটো নয়, জাতীয় সড়কে যে কোনও ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আগামী দিনে আরও জোরদার অভিযান চালানো হবে। হেলমেট না পরা, সিটবেল্ট ব্যবহার না করা, ওভারলোডিং, উল্টো পথে গাড়ি চালানো কিংবা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর মতো অপরাধের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের উদ্দেশেও ট্রাফিক বিভাগের আবেদন, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রত্যেককেই ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। কয়েক মিনিট সময় বাঁচাতে গিয়ে নিজের এবং অন্যের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা উচিত নয়। সচেতনতা এবং আইন মেনে চলার মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। দুর্গাপুর ট্রাফিক গার্ডের এই বিশেষ অভিযান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—জাতীয় সড়কে নিয়ম ভাঙার কোনও সুযোগ নেই। যাত্রী নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু যান চলাচল নিশ্চিত করতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে। নিয়ম ভাঙলেই নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।