কয়লা পাচার তদন্তে বড় পদক্ষেপ, ED-র হাতে ধৃত প্রাক্তন ওসি
BEAURO REPORT : বহুল চর্চিত কয়লা পাচার মামলায় ফের বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে বুদবুদ থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED। তদন্তে অসহযোগিতা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কয়লা পাচার মামলাকে ঘিরে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়লা পাচার সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্যের সূত্র ধরেই মনোরঞ্জন মণ্ডলের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু করে ইডি। গত কয়েক মাস ধরেই তাঁর ওপর নজর রাখছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসার পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। এর আগে কয়েকদিন আগেই মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। সেই তল্লাশি অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলেই সূত্রের দাবি। এরপর থেকেই তদন্তের গতি আরও বাড়ানো হয়। তদন্তকারীরা বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে হাজিরা দেওয়ার পর মনোরঞ্জন মণ্ডলকে দীর্ঘক্ষণ ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডির আধিকারিকরা। প্রায় ম্যারাথন জেরা চলাকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বেশ কিছু বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পাশাপাশি তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও তিনি করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। ED সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি প্রাক্তন ওসি। বেশ কিছু বিষয়ে তিনি অস্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন বলেও অভিযোগ। এছাড়াও তদন্তে সহযোগিতা না করার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, বহুল আলোচিত কয়লা পাচার মামলায় এর আগেও একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং প্রশাসনিক কর্তাদের নাম উঠে এসেছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল বুদবুদ থানার প্রাক্তন ওসির নামও। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত কয়লা পাচার মামলার তদন্তে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে ইডি। বেআইনি কয়লা পাচার এবং তার সঙ্গে জড়িত আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজতে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বহুবার তল্লাশি অভিযানও চালানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনিক স্তরের কিছু আধিকারিকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর সেই তদন্তের ধারাবাহিকতাতেই সামনে আসে মনোরঞ্জন মণ্ডলের নাম। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরু হয়। এদিকে, মনোরঞ্জন মণ্ডলের গ্রেফতারির পর তাঁকে আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারী সংস্থা তাঁর হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি জানাতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ, কয়লা পাচার মামলার সঙ্গে জড়িত আরও বড় কোনও চক্র বা নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, তা জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই গ্রেফতারি কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে। কারণ, একজন প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের নাম এই মামলায় সামনে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে মনোরঞ্জন মণ্ডলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেফতার মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে। পরবর্তী সময়ে আদালতেই নির্ধারিত হবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা কতটা এবং তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে। সব মিলিয়ে, বহুল আলোচিত কয়লা পাচার মামলায় বুদবুদ থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের গ্রেফতারি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে এই মামলাকে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও কী কী তথ্য সামনে আসে এবং এই মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। এখন দেখার, আদালতে পেশ করার পর তদন্তকারী সংস্থা প্রাক্তন ওসিকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় কি না এবং জেরায় উঠে আসে কি না আরও কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে এই গ্রেফতারি যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, তা বলাই বাহুল্য।
