
পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছু নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীরা বিভিন্ন নথি, আর্থিক লেনদেন এবং স্থানীয়দের অভিযোগ খতিয়ে দেখেন। এরপর শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি দেওয়া, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি। যাঁদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, সন্ত্রাস বা বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগ ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। অন্ডালের এই গ্রেফতারিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। শনিবার সকালে ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। আদালতে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কয়লা ও জমি কারবারকে কেন্দ্র করে এলাকায় এক ধরনের ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চলছিল। সাধারণ মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীরা চাপে থাকতেন। পুলিশের এই পদক্ষেপে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলেও দাবি তাঁদের। অন্যদিকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ অবশ্য এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, বিরোধী রাজনৈতিক আবহ তৈরি করতেই পুরনো অভিযোগ সামনে এনে গ্রেফতারি করা হচ্ছে। যদিও পুলিশ সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ তদন্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, বহুদিন ধরেই এলাকায় কয়লা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র সক্রিয় ছিল। সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারতেন না বলেও অভিযোগ। তবে সাম্প্রতিক পুলিশি পদক্ষেপের ফলে মানুষ এখন অভিযোগ জানাতে সাহস পাচ্ছেন বলে দাবি তাঁদের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শিল্পাঞ্চলে কয়লা ব্যবসা ও জমি কারবার দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল বিষয়। সেই কারণে অন্ডালের এই গ্রেফতারি আগামী দিনে আরও বড় তদন্তের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্তে আর কারও নাম উঠে আসে কি না, বেআইনি আর্থিক লেনদেনের কোনও বড় চক্র সামনে আসে কি না, তা নিয়েই জল্পনা শুরু হয়েছে শিল্পাঞ্চল জুড়ে। একইসঙ্গে শনিবার আদালতে ধৃতদের পেশের পর কী নির্দেশ দেয় আদালত, সেদিকেও নজর রয়েছে সকলের।
