কালীপুজোর পরের দিন মূর্তি ছাড়াই পুঁজিত হন বন কালী !!
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
কাঁকসা : রাজকুসুম গ্রাম— চারিদিকে শাল, পিয়াল আর মহুয়ার ঘন সবুজে মোড়া এক অরণ্য। পাখির ডাক, বাতাসে ভেসে আসা মাটির গন্ধ, আর সেই জঙ্গলের অন্তরালে আজও বিরাজ করছেন দেবী বনকালী। কালীপুজোর পরের দিন, সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই জঙ্গলের বুক জুড়ে শুরু হয় এক অন্য মহোৎসব— বনকালীর পুজো।
প্রায় পাঁচশো বছরের পুরনো এই পুজোর সূচনা করেছিলেন রাজকুসুম গ্রামের রায় পরিবারের পূর্বপুরুষেরা। তাঁদের বংশধর সনৎ কুমার রায় আজও গর্বভরে বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষের শুরু করা এই পুজো আজও অবিকল সেই রীতিতেই চলে।” একসময় জঙ্গলের গভীরে মূর্তি এনে পুজো হত, পুরোহিত আসতেন কাঁকসার গোপালপুরের ভট্টাচার্য পরিবার থেকে। কিন্তু তখনকার দিনে জঙ্গল ছিল ভয়ঙ্কর— চারদিকে ধানক্ষেত, কাদা, কাঁদা, ছিল হিংস্র পশুর ভয়। তাই পুরোহিতকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হত লাঠিয়ালদের পাহারায়, ধানের আল ধরে।
একবছর প্রবল বর্ষায় সেই পথই যখন অগম্য হয়ে ওঠে, তখনই ঘটে অলৌকিক এক ঘটনা। পুরোহিত স্বপ্নে দেবীকে দেখেন। দেবী তাঁকে আদেশ দেন, “আমার পুজো তোমারই ঘরে হবে, কিন্তু আমি রয়ে যাব জঙ্গলে।” পুরোহিত বিস্ময়ে প্রশ্ন করেন— “তোমার মূর্তি না থাকলে কোথায় দেব তোমায় পুজো মা?” দেবী বলেন, “জঙ্গলের মধ্যে এক গাছের গায়ে দু’টি চোখের চিহ্ন দেখা যাবে— সেই গাছেই আমি বিরাজমান।”
সেই থেকে আজও, প্রায় একশো বছর ধরে, ভট্টাচার্য পরিবারে ঘরে দেবীর পূজা হয় আর রাজকুসুমের জঙ্গলে চলে বনকালীর পুজো— মূর্তি ছাড়া, মন্দির ছাড়া, কেবল বিশ্বাসের দীপ জ্বেলে। পুজো হয় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত। জঙ্গলের নির্জনতায় যখন ঢাকের আওয়াজ বেজে ওঠে, তখন ভক্তদের ঢল নামে চারদিক থেকে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম এমনকি অন্য জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ আসে মনের বাসনা পূরণের আশায়। কেউ আসে পরিবারের মঙ্গল চেয়ে, কেউ আসে পূর্ণ মনস্কামনা নিয়ে মানত রাখতে। আজও কেউ নিমন্ত্রণ পায় না— তবুও বনকালীর মাহাত্ম্যই মানুষকে ডেকে আনে। বলা হয়, দেবীর উপস্থিতি টের পাওয়া যায় জঙ্গলের প্রতিটি গাছে, প্রতিটি বাতাসে, প্রতিটি চোখের আকৃতিতে। মনে হয়, যেন মা নিজেই হাসছেন গাছের গায়ে, আশীর্বাদ দিচ্ছেন আপন সন্তানদের।
একবছর প্রবল বর্ষায় সেই পথই যখন অগম্য হয়ে ওঠে, তখনই ঘটে অলৌকিক এক ঘটনা। পুরোহিত স্বপ্নে দেবীকে দেখেন। দেবী তাঁকে আদেশ দেন, “আমার পুজো তোমারই ঘরে হবে, কিন্তু আমি রয়ে যাব জঙ্গলে।” পুরোহিত বিস্ময়ে প্রশ্ন করেন— “তোমার মূর্তি না থাকলে কোথায় দেব তোমায় পুজো মা?” দেবী বলেন, “জঙ্গলের মধ্যে এক গাছের গায়ে দু’টি চোখের চিহ্ন দেখা যাবে— সেই গাছেই আমি বিরাজমান।”
সেই থেকে আজও, প্রায় একশো বছর ধরে, ভট্টাচার্য পরিবারে ঘরে দেবীর পূজা হয় আর রাজকুসুমের জঙ্গলে চলে বনকালীর পুজো— মূর্তি ছাড়া, মন্দির ছাড়া, কেবল বিশ্বাসের দীপ জ্বেলে। পুজো হয় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত। জঙ্গলের নির্জনতায় যখন ঢাকের আওয়াজ বেজে ওঠে, তখন ভক্তদের ঢল নামে চারদিক থেকে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম এমনকি অন্য জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ আসে মনের বাসনা পূরণের আশায়। কেউ আসে পরিবারের মঙ্গল চেয়ে, কেউ আসে পূর্ণ মনস্কামনা নিয়ে মানত রাখতে। আজও কেউ নিমন্ত্রণ পায় না— তবুও বনকালীর মাহাত্ম্যই মানুষকে ডেকে আনে। বলা হয়, দেবীর উপস্থিতি টের পাওয়া যায় জঙ্গলের প্রতিটি গাছে, প্রতিটি বাতাসে, প্রতিটি চোখের আকৃতিতে। মনে হয়, যেন মা নিজেই হাসছেন গাছের গায়ে, আশীর্বাদ দিচ্ছেন আপন সন্তানদের।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
