অনুব্রতর প্রাক্তন দেহরক্ষী সাইগল হোসেন গ্রেফতার !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
বোলপুর : টুলু মণ্ডলের ডিআরসিআর জালিয়াতি-কাণ্ডে এবার গ্রেফতার অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সাইগল হোসেন। স্বাধীনতা দিবসের দিন শনিবার বোলপুর বাইপাস সংলগ্ন সাইগলের ফ্ল্যাটে প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় বীরভূম জেলা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। দীর্ঘ তল্লাশি এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাতেই তাঁকে আটক করা হয়। এরপর রবিবার ভোররাতে তাঁকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী দল। পুলিশ সূত্রে খবর, সাইগলের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, জমির দলিল এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ফ্ল্যাট থেকে নগদ ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫০টিরও বেশি জমির দলিল ও অন্যান্য নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর সঙ্গে সোনা এবং একটি ল্যাপটপও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই বিপুল পরিমাণ নথি, নগদ টাকা এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের পরই তদন্তে নতুন মোড় আসে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ডিআরসিআর জালিয়াতি মামলায় টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সাইগল হোসেনের কোনও আর্থিক যোগসূত্র ছিল কি না, সেই বিষয়টিই এখন তদন্তকারীদের অন্যতম প্রধান নজর। ডিআরসিআর জালিয়াতি-কাণ্ডে টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, ডিআরসিআর বা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়েই একাধিক ব্যক্তি এবং তাঁদের আর্থিক লেনদেনের দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের নজরে আসে সাইগল হোসেনের নামও। অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত সাইগলের আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে তদন্তকারীরা তাঁর বোলপুর বাইপাস সংলগ্ন ফ্ল্যাটে অভিযান চালান। শনিবার স্বাধীনতা দিবসের দিন সকাল থেকে শুরু হয় সেই অভিযান। একটানা প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। ফ্ল্যাটের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি নথিপত্র খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে জমির দলিলের সংখ্যা ১৫০-র বেশি বলে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক জমির দলিল কেন সাইগলের কাছে ছিল, সেগুলির সঙ্গে ডিআরসিআর জালিয়াতির কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, এবং এই সম্পত্তিগুলির আর্থিক উৎস কী—সেই প্রশ্নগুলিও এখন তদন্তের আওতায়। একইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা এবং সোনার উৎস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, শুধু সম্পত্তির নথি উদ্ধারই নয়, সাইগলের আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর নামে বা তাঁর সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পত্তি রয়েছে কি না, সেই সম্পত্তি কীভাবে কেনা হয়েছিল এবং তার অর্থের উৎস কোথায়—এই বিষয়গুলিও তদন্ত করা হতে পারে।
অনুব্রতর প্রাক্তন দেহরক্ষী সাইগল হোসেন গ্রেফতার !
টুলুর ডিআরসিআর জালিয়াতি-কাণ্ডে গ্রেফতার সাইগল ! ফ্ল্যাটে ১৬ ঘণ্টার তল্লাশিতে বিপুল নথি-নগদ উদ্ধার

অন্যদিকে, তল্লাশির সময় একটি ল্যাপটপও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই ল্যাপটপে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথি বা আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা যাচ্ছে। ডিজিটাল তথ্য এই তদন্তে নতুন কোনও সূত্র দেয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে পুলিশের। শনিবার রাতেই সাইগল হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তল্লাশিতে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য এবং নথি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের ধরন, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এরপর তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। অর্থাৎ, দীর্ঘ তল্লাশির পর আটকের ঘটনা শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারিতে গড়াল। সাইগল হোসেনকে এরপর বীরভূমের সিউড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রবিবার তাঁকে সিউড়ি সদর আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আদালতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হতে পারে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে এখন মূল প্রশ্ন, টুলু মণ্ডলের ডিআরসিআর জালিয়াতি-কাণ্ডের সঙ্গে সাইগলের যোগ ঠিক কতটা। শুধু ব্যক্তিগত পরিচয় বা যোগাযোগ নয়, আর্থিক লেনদেনের কোনও সরাসরি যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ১৫০টিরও বেশি জমির দলিল উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি তদন্তে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই দলিলগুলি কার নামে, কখন কেনা হয়েছে, জমিগুলির অবস্থান কোথায় এবং সেগুলি কেনার অর্থের উৎস কী—প্রতিটি বিষয়ই খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। একইসঙ্গে, উদ্ধার হওয়া নগদ ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকার উৎসও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির নথি, নগদ টাকা বা অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে সরাসরি কোনও অপরাধের যোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। তদন্তে সেই যোগসূত্র প্রমাণিত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য এবং পরবর্তী তদন্তের ভিত্তিতেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা ডিআরসিআর জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন নাম এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র। এবার সেই তদন্তের পরিধিতে যুক্ত হল সাইগল হোসেনের নাম। দীর্ঘ তল্লাশি, বিপুল সংখ্যক জমির দলিল উদ্ধার, নগদ টাকা, সোনা এবং ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত—সব মিলিয়ে এই অভিযানকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল। এখন আদালতে সাইগলকে পেশ করার পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেটাই বড় প্রশ্ন। তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর কথিত আর্থিক যোগাযোগ সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশা। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া নথির সূত্র ধরে আরও সম্পত্তি, আরও ব্যক্তি কিংবা আরও কোনও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে পুলিশের। সব মিলিয়ে, টুলু মণ্ডলের ডিআরসিআর জালিয়াতি মামলায় সাইগল হোসেনের গ্রেফতার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রায় ১৬ ঘণ্টার ম্যারাথন তল্লাশির পর রবিবার ভোররাতে গ্রেফতার করা হল অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষীকে। উদ্ধার হওয়া ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা, ১৫০টিরও বেশি জমির দলিল, সোনা এবং ল্যাপটপ ঘিরে এখন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সাইগলের আর্থিক যোগসূত্র কতটা গভীর, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির নথিগুলির উৎস কী এবং এই জালিয়াতি-কাণ্ডে আরও কারও ভূমিকা রয়েছে কি না—পরবর্তী তদন্ত এবং আদালতের প্রক্রিয়াতেই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে সেই উত্তর।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram