জঙ্গি যোগে ধৃত হামিম-অর্পিতাদের ফের আদালতে পেশ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
পূর্ব বর্ধমান : পাকিস্তানের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার তিনজনকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে শুক্রবার ফের বর্ধমান আদালতে পেশ করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা STF। ধৃত তিনজন হলেন হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিং ওরফে রাজ ওরফে রাজু। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে গত ১৪ দিন ধরে একাধিক দিক খতিয়ে দেখেছেন তদন্তকারীরা। এখন পুলিশ হেফাজত শেষ হওয়ার পর আদালতে ফের পেশ করা হল তিন অভিযুক্তকে। STF সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে কথিত যোগাযোগের বিষয়টি কতটা সত্য, কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল, কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল এবং কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা নথি আদান-প্রদান করা হয়েছিল কি না—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা। তদন্তকারীদের দাবি, শুধুমাত্র তিন অভিযুক্তের বক্তব্যের উপর নির্ভর না করে বিভিন্ন সূত্র মিলিয়ে গোটা ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাওয়া তথ্য, বিভিন্ন নথি এবং তদন্তে উঠে আসা সূত্রের ভিত্তিতে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে STF সূত্রে খবর। এই ঘটনায় তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে কথিত যোগাযোগের মাধ্যমও। অভিযুক্তরা কীভাবে যোগাযোগ করতেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, সেই যোগাযোগ কতদিন ধরে চলছিল এবং যোগাযোগের পিছনে নির্দিষ্ট কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। একই সঙ্গে, কোনও তথ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানো হয়েছিল কি না, পাঠানো হয়ে থাকলে তার প্রকৃতি কী ছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, এই কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র ওই তিনজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, নাকি এর পিছনে আরও কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে। ধৃতদের সঙ্গে কার কার যোগাযোগ ছিল, তাঁরা নিয়মিত কারও সঙ্গে দেখা করতেন কি না, অথবা কোনও ব্যক্তি কিংবা সংগঠনের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল কি না—সেই সমস্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, কথিত পাকিস্তানি যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনও মধ্যস্থতাকারী ছিল কি না, থাকলে সেই ব্যক্তির ভূমিকা কী ছিল, এবং আরও কেউ এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে পারেন কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। যদিও তদন্তের এই পর্যায়ে সমস্ত অভিযোগই তদন্তসাপেক্ষ এবং আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
জঙ্গি যোগে ধৃত হামিম-অর্পিতাদের ফের আদালতে পেশ !
পাকিস্তানের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ ! ১৪ দিনের হেফাজত শেষে ফের আদালতে ৩ অভিযুক্ত, ফের ২৮ দিনের জেল হেপাজতে হামিম-অর্পিতা

এদিকে, শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের পর তিন অভিযুক্তকেই ফের বর্ধমান আদালতে নিয়ে আসে STF। আদালত চত্বরে তাঁদের ঘিরে ছিল পুলিশি নিরাপত্তা। ১৪ দিনের হেফাজতে তদন্তে কী কী তথ্য উঠে এসেছে, জিজ্ঞাসাবাদে কী কী জানা গিয়েছে এবং তদন্ত বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে—সেই সংক্রান্ত তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরেছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এই ঘটনার পিছনে আরও কোনও বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না। কারণ, কথিতভাবে বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তের পরিধি শুধুমাত্র তিন অভিযুক্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তাঁদের যোগাযোগের পরিধি, আর্থিক লেনদেন, প্রযুক্তিগত যোগাযোগ এবং পরিচিতদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে দেখছেন আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তদের কাছ থেকে পাওয়া বক্তব্যের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও কোনও অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সেই জায়গাগুলিও আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—অভিযুক্তদের কথিত যোগাযোগের সঙ্গে কোনও সংগঠিত চক্রের সম্পর্ক রয়েছে কি না। কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন তাঁদের প্রভাবিত করেছিল কি না, কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশের ভিত্তিতে তাঁরা কাজ করেছিলেন কি না, অথবা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমেই গোটা বিষয়টি তৈরি হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তরও খুঁজছে STF। তবে তদন্তকারীদের হাতে এখনও পর্যন্ত ঠিক কী কী তথ্য এসেছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তদন্তের স্বার্থেই বেশ কিছু তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের সামনে তদন্তের অগ্রগতি এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি পরবর্তী তদন্তের দিকও স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে STF। তদন্তে উঠে আসা নতুন সূত্র ধরে আরও জিজ্ঞাসাবাদ বা অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ করা হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিনজনের গ্রেফতারির ঘটনায় তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার সামনে আসতে পারে আরও কিছু তথ্য। ধৃত তিনজনের সঙ্গে আরও কারও যোগাযোগ ছিল কি না, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে কি না এবং কথিতভাবে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে রাজ্য পুলিশের STF। তবে শেষ পর্যন্ত ফের ২৮ দিনের জেল হেপাজতে হামিম-অর্পিতা ।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram