ডুবুরডিহি চেকপোস্টে মোষ বোঝাই দুই পিকআপ আটক

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ডুবুরডিহি চেকপোস্টে মোষবোঝাই দুটি পিকআপ ভ্যান আটক করল কুলটি থানার চৌরঙ্গী ফাঁড়ির পুলিশ। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় ছড়ায় চাঞ্চল্য। দুটি গাড়িতেই লেখা ছিল ‘অ্যানিম্যাল ক্যারিয়ার’। কিন্তু গাড়িতে থাকা পশুগুলির পরিবহন সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর পুলিশের প্রাথমিক যাচাইয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুটি পিকআপ ভ্যানে মোট চারটি মোষ এবং চারটি মোষের বাচ্চা ছিল। অর্থাৎ দুই গাড়ি মিলিয়ে মোট আটটি পশু নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গাড়ি দুটিকে ডুবুরডিহি চেকপোস্টে থামিয়ে পশু পরিবহনের বৈধ নথিপত্র পরীক্ষা করে পুলিশ। একইসঙ্গে পশুগুলির শারীরিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হয়। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের দাবি, মোষগুলিকে বিহারের আরা থেকে হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বরের একটি খাটালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাঁদের বক্তব্য, পশু পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। এমনকি পশু চিকিৎসকের রসিদও তাঁদের কাছে থাকার কথা জানান গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তি। কিন্তু সীমান্ত চেকপোস্টে পুলিশের নথি যাচাইয়ের সময়ই তৈরি হয় সমস্যা। পুলিশের প্রাথমিক যাচাইয়ে নথিপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে জানা গিয়েছে। এরপর নিয়ম মেনে গাড়ি দুটিকে আর সামনে এগোতে দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুটি পিকআপ ভ্যানকেই পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। সত্যিই কি পশুগুলিকে বৈধভাবে একটি খাটালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? নাকি পরিবহনের নথিপত্রে কোনও সমস্যা ছিল? আর যদি নথিতে অসঙ্গতি থেকে থাকে, তাহলে সেই অসঙ্গতি ঠিক কোথায়—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পশু পরিবহনকে ঘিরে পুলিশের নজরদারিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হয়। সেই নিয়ম মেনেই মঙ্গলবার দুই গাড়িকে থামিয়ে পরীক্ষা করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। গাড়িতে থাকা সুমন যাদব জানান, মোষগুলি বিহারের আরা থেকে হুগলির ভদ্রেশ্বরের একটি খাটালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাঁর দাবি, পশুগুলিকে পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁদের কাছে ছিল। তাঁদের যাত্রাপথ এবং গন্তব্য সম্পর্কেও তিনি পুলিশের কাছে একই তথ্য দিয়েছেন বলে জানা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের নথি যাচাইয়ের পর গাড়ি দুটিকে আর এগোতে দেওয়া হয়নি। ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে ঠিক কোন কোন নথি প্রয়োজন এবং সেই নথিগুলির বৈধতা কতটা ছিল। কারণ শুধু গাড়িতে ‘অ্যানিম্যাল ক্যারিয়ার’ লেখা থাকলেই পশু পরিবহনের নিয়ম সম্পূর্ণ হয়ে যায় না। পশুর সংখ্যা, উৎস, গন্তব্য, পরিবহনের অনুমতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি—সবকিছুই নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের তরফে প্রাথমিকভাবে নথিতে অসঙ্গতির কথা জানা গেলেও এই ঘটনায় কোনও পাচারের যোগ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাই শুধুমাত্র গাড়ি আটক হওয়ার ঘটনাকে পশু পাচার হিসেবে দেখার কোনও সুযোগ নেই। বরং নথিপত্রের প্রকৃত অবস্থা এবং পরিবহনের বৈধতা খতিয়ে দেখার পরই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।
ডুবুরডিহি চেকপোস্টে মোষ বোঝাই দুই পিকআপ আটক
মোষবোঝাই ২ গাড়ি আটক, নথিতে গরমিল ! ডুবুরডিহিতে পুলিশের কড়া নজরদারি

তবে সীমান্ত চেকপোস্টে পুলিশের এই নজরদারি ফের একবার সামনে এনে দিয়েছে পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পশু নিয়ে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্রে সামান্য অসঙ্গতিও প্রশাসনের নজরে আসতে পারে। কারণ পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙা হলে তা শুধু আইনগত সমস্যাই তৈরি করে না, পশুগুলির নিরাপত্তা এবং কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার ডুবুরডিহি চেকপোস্টে পুলিশ প্রথমে গাড়ি দুটি থামায়। এরপর গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি গাড়ির ভিতরে থাকা মোষ এবং মোষের বাচ্চাগুলির অবস্থাও খতিয়ে দেখা হয়। নথিপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পরই গাড়ি দুটিকে আর সামনে যেতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নথিপত্রের বৈধতা। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের দাবি, তাঁরা পশুগুলিকে আরা থেকে ভদ্রেশ্বরের একটি খাটালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল পশু পরিবহনের একটি স্বাভাবিক যাত্রা। কিন্তু পুলিশের যাচাইয়ে যদি সত্যিই নথিপত্রে অসঙ্গতি থেকে থাকে, তাহলে সেই অসঙ্গতির কারণ কী, তা জানা প্রয়োজন। এদিকে সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী এবং যাত্রীবাহী গাড়ি যাতায়াত করে। তার মধ্যে পশুবাহী গাড়িগুলির ক্ষেত্রে আলাদা করে নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পশুগুলির পরিবহনের বৈধতা, প্রয়োজনীয় নথি এবং গন্তব্য—এই সমস্ত বিষয় যাচাই করেই গাড়িগুলিকে এগোনোর অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন। ডুবুরডিহি চেকপোস্টে মঙ্গলবারের ঘটনাতেও সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনও পাচারচক্রের যোগ রয়েছে কি না, নাকি শুধুমাত্র নথিপত্রের সমস্যার কারণেই গাড়ি দুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। এখন নজর থাকবে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নথিপত্রের অসঙ্গতি ঠিক কী ধরনের ছিল, সেই বিষয়টি পরিষ্কার হলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও সামনে আসবে। অন্যদিকে, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যও এই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাঁদের দাবি, তাঁরা বৈধভাবেই মোষগুলিকে একটি নির্দিষ্ট খাটালে নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁদের কাছে ছিল। পুলিশের যাচাইয়ের পরই গাড়ি দুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে মঙ্গলবারের এই ঘটনায় আপাতত আটটি পশু নিয়ে যাওয়া দুটি গাড়ি আর গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি। ডুবুরডিহি চেকপোস্টেই থেমে যায় তাদের যাত্রা। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সীমান্ত দিয়ে পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা এবং সঠিক নথিপত্র সঙ্গে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি গাড়িতে পশু রয়েছে মানেই সেটি অবৈধ পরিবহন—এমনটা যেমন বলা যায় না, তেমনই শুধুমাত্র চালক বা গাড়িতে থাকা ব্যক্তির দাবির ভিত্তিতেও পরিবহনকে বৈধ বলে ধরে নেওয়া সম্ভব নয়। নথিপত্র যাচাই, পশুগুলির অবস্থা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। ডুবুরডিহি চেকপোস্টে মঙ্গলবারের ঘটনায় আপাতত দুটি গাড়িকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সামনে এখন একটাই প্রশ্ন—নথিতে ঠিক কী অসঙ্গতি ছিল? এটি কি শুধুই পরিবহনের কাগজপত্রের সমস্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? সেই উত্তরই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকার এই ঘটনায়।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram