লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে বিধায়ক

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
লাভপুর : মাতৃ বন্দনা দিবস উপলক্ষে লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন লাভপুরের বিধায়ক দেবাশীষ ওঝা। এদিন হাসপাতালে গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁদের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা পরিষেবা এবং হাসপাতালে তাঁদের কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা মিলছে, সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে খোঁজ নেন বিধায়ক। মাতৃস্বাস্থ্য এবং গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসা পরিষেবাকে সামনে রেখে এদিনের এই কর্মসূচি হলেও, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় বাল্যবিবাহের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা বেশ কয়েকজন গর্ভবতী মায়ের বয়স ১৮ বছর বা তার কম। অল্প বয়সে বিয়ে এবং মাতৃত্বের এই প্রবণতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে এদিনের কর্মসূচিতে বিধায়ক প্রথমে গর্ভবতী মায়েদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। চিকিৎসা পরিষেবা পেতে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরিষেবা মিলছে কি না, সেই বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। গর্ভবতী মায়েদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েই উঠে আসে বাল্যবিবাহের প্রসঙ্গ। বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, অল্প বয়সে বিয়ে এবং তারপর খুব কম বয়সেই মাতৃত্বের ঘটনা এখনও সমাজে উদ্বেগের কারণ। তাঁর দাবি, হাসপাতালে আসা কয়েকজন গর্ভবতী মায়ের বয়স ১৮ বছর বা তার কম হওয়ার বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। আর এই বিষয়টিই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নিয়ে। অল্প বয়সে বিয়ে এবং মাতৃত্বের ফলে কিশোরী ও তরুণীদের জীবনে নানা ধরনের সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই এই প্রবণতা বন্ধ করতে পরিবার থেকে প্রশাসন—প্রত্যেক স্তরেই সচেতনতা এবং সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিধায়ক। দেবাশীষ ওঝা এদিন বাল্যবিবাহ রুখতে আগামী দিনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সামাজিক সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য সাধারণ মানুষকেও আরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। একটি মেয়ের বিয়ের উপযুক্ত বয়স হওয়ার আগে তার বিয়ে না দেওয়া এবং তার শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বিষয়ে পরিবারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। বিধায়কের বক্তব্যে উঠে আসে প্রশাসনের ভূমিকার কথাও। তাঁর মতে, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। কোথাও নাবালিকার বিয়ের প্রস্তুতি চলছে কি না, সেই বিষয়ে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা দরকার। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ অনেক সময় সামাজিক রীতিনীতি, আর্থিক সমস্যা কিংবা নানা ধরনের পারিবারিক চাপের কারণে অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। সেই মানসিকতা বদলানোর জন্য ধারাবাহিক প্রচার এবং সচেতনতা কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে। এদিনের কর্মসূচিতে বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লাভপুরের বিডিও অংশুজ্যোতি মণ্ডল এবং লাভপুরের BMOH চিকিৎসক শামীম আখতার। তাঁদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের পরিষেবা এবং মাতৃস্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে বিধায়ক
মাতৃ বন্দনা দিবসে লাভপুর হাসপাতালে বিধায়ক ! বাল্যবিবাহ নিয়ে উদ্বেগ, কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের জন্য কী ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর—এই সমস্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মাতৃ বন্দনা দিবসের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এদিন গর্ভবতী মায়েদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, চিকিৎসকদের কাছ থেকে যথাযথ পরামর্শ পাচ্ছেন কি না এবং হাসপাতালে এসে চিকিৎসা পরিষেবা পেতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না—সেই বিষয়গুলি জানার চেষ্টা করেন বিধায়ক। হাসপাতালে আসা মহিলাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবার সামগ্রিক পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়। তবে এদিনের কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায় বাল্যবিবাহ নিয়ে বিধায়কের বক্তব্য। কারণ, একটি হাসপাতালের মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত কর্মসূচিতে অল্পবয়সি গর্ভবতী মায়েদের প্রসঙ্গ সামনে আসায় বিষয়টি সামাজিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিধায়কের দাবি সত্য হলে, লাভপুর এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আরও জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে হাসপাতালে আসা গর্ভবতী মায়েদের বয়স সংক্রান্ত কোনও সরকারি পরিসংখ্যান এদিন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিধায়কের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহের প্রকৃত চিত্র জানতে প্রশাসনিক স্তরে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কোথায় নাবালিকার বিয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, কোন পরিবারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং কীভাবে আগেভাগেই তা প্রতিরোধ করা যায়—সেই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী, পঞ্চায়েত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। অন্যদিকে, মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও সচেতনতার গুরুত্ব অপরিসীম। গর্ভবতী মহিলাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ এবং সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছনোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে গ্রামীণ হাসপাতালগুলির পরিষেবা আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা সহজলভ্য করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় এই সমস্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা করেন বিধায়ক, BDO এবং BMOH। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিষেবার বিভিন্ন দিক নিয়েও খোঁজখবর নেওয়া হয়। মাতৃ বন্দনা দিবসের এই কর্মসূচি তাই শুধুমাত্র গর্ভবতী মায়েদের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না। সামনে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যাও—বাল্যবিবাহ। একদিকে মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতি, অন্যদিকে অল্প বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্বের প্রবণতা রোধ—দুই ক্ষেত্রেই প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের যৌথ ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিধায়ক দেবাশীষ ওঝা। এখন প্রশ্ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের তরফে আগামী দিনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শুধু হুঁশিয়ারি নয়, বাস্তবে নজরদারি এবং সচেতনতা কতটা বাড়ানো যায়, সেটাই হবে বড় বিষয়। সব মিলিয়ে মাতৃ বন্দনা দিবসে লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে বিধায়কের পরিদর্শন ঘিরে মাতৃস্বাস্থ্য থেকে শুরু করে বাল্যবিবাহ—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এল। গর্ভবতী মায়েদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি অল্প বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্বের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিধায়ক। আগামী দিনে বাল্যবিবাহ রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানালেন তিনি। মাতৃ বন্দনা দিবসের এই কর্মসূচি থেকে তাই স্পষ্ট—মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতির পাশাপাশি বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলাও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram