বন্দেমাতরমের ১৫০ বর্ষ পূর্তি উদযাপনে র্যালির ABVP-র

এবিভিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুধুমাত্র দুর্গাপুর নয়, দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কোথাও র্যালি, কোথাও আলোচনা সভা, আবার কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সময়কে স্মরণ করা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস এবং জাতীয় চেতনার বিষয়গুলি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। বন্দেমাতরমের ইতিহাস ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে রচিত এই গান পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে দেশমাতৃকার বন্দনার প্রতীকে পরিণত হয়। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এবং মিছিলে বন্দেমাতরমের ধ্বনি শোনা যেত। স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার বার্তা বহন করত এই গান। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই ১৫০ বছর পূর্তির কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবিভিপি। সংগঠনের বক্তব্য, বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইতিহাসকে জীবন্ত করে তুলতে এই ধরনের কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে দেশ, সমাজ এবং ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এদিনের র্যালিতে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের মধ্যেও ছিল যথেষ্ট উৎসাহ। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে র্যালিতে হাঁটতে দেখা যায় ছাত্রছাত্রীদের। তাদের বক্তব্যেও উঠে আসে দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধার কথা। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশাত্মবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বলে জানান অনেকেই। তবে এই র্যালিকে শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং ঐতিহাসিক একটি ঘটনাকে স্মরণ করার উপলক্ষ হিসেবেই দেখছে আয়োজকরা। তাদের মতে, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা দরকার। বন্দেমাতরমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাসও তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল বরাবরই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম কেন্দ্র। সেই দুর্গাপুরেই একটি কলেজকে কেন্দ্র করে বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই র্যালি আয়োজনের ফলে নতুন করে সামনে এল ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও। জাতীয় পতাকা হাতে কলেজ পড়ুয়াদের এই পদযাত্রা ঘিরে এদিন শহরের মানুষের মধ্যেও আগ্রহ দেখা যায়। কলেজ থেকে শুরু হয়ে সিটি সেন্টারের দিকে এগিয়ে যাওয়া র্যালি পথচারীদের নজর কাড়ে। র্যালির মাধ্যমে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ইতিহাস, দেশপ্রেম এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হয়। সব মিলিয়ে, বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের মাইকেল মধুসূদন মেমোরিয়াল কলেজে এবিভিপির উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য র্যালি হয়ে উঠল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় পতাকা হাতে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ, দেশাত্মবোধক আবহ এবং বন্দেমাতরমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব—সব মিলিয়ে কর্মসূচিকে ঘিরে তৈরি হয় অন্যরকম পরিবেশ। কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই র্যালি শেষ হয় সিটি সেন্টারের কবিগুরু লাস্ট টপেজে। আর সেই র্যালির মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর পূর্তিকে স্মরণ করা হল, তেমনই নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হল দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতীয় চেতনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
