দুর্গাপুর ব্যারেজে এবার নৌবিহার, জেট স্কি ! বড় পর্যটন প্রকল্পের উদ্যোগ

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram

দুর্গাপুর : ব্যারেজকে ঘিরে বড় পর্যটন প্রকল্পের পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের। পশ্চিম বর্ধমানের পর্যটন মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে এবার ব্যারেজ এলাকায় ইকো-ট্যুরিজম পার্ক এবং আধুনিক জলক্রীড়া কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুর ব্যারেজ শুধু শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাধার বা দর্শনীয় স্থান হিসেবেই নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যের পর্যটন দফতরের তরফে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসককে এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত ৩ আগস্ট জারি হওয়া নির্দেশিকায় দ্রুত সমীক্ষা চালিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আপাতত প্রকল্পটি পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। সমীক্ষার রিপোর্ট ইতিবাচক হলে পরবর্তী ধাপে সরকারি নির্দেশিকা মেনে পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিআর তৈরি করে পর্যটন দফতরে পাঠানো হবে। আর সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুর ব্যারেজের চেহারায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কী থাকতে পারে এই প্রকল্পে? পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুর্গাপুর ব্যারেজ এলাকায় গড়ে উঠতে পারে একটি পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম পার্ক। পাশাপাশি তৈরি হতে পারে আধুনিক জলক্রীড়া কেন্দ্র। যেখানে পর্যটকরা নৌবিহার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের জলক্রীড়ার সুযোগ পেতে পারেন। নৌবিহার, কায়াকিং, প্যাডেল বোট, জেট স্কি—এর মতো একাধিক আকর্ষণ যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা জানা গিয়েছে। ফলে বর্তমানে যে ব্যারেজ এলাকায় মানুষ মূলত প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে বা সময় কাটাতে আসেন, সেই জায়গাতেই ভবিষ্যতে বিনোদন এবং অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দামোদর নদ এবং দুর্গাপুর ব্যারেজকে কেন্দ্র করে এই পর্যটন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম বর্ধমানের পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। দুর্গাপুর শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত হলেও শহর এবং আশপাশের এলাকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের বেশ কিছু সম্ভাবনাময় জায়গা রয়েছে। কিন্তু সেগুলিকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এখনও অনেকটাই সুযোগ রয়েছে। সেই জায়গা থেকেই দুর্গাপুর ব্যারেজকে ঘিরে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের পরই এই প্রকল্প নিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের কাছে দুর্গাপুর ব্যারেজকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার আবেদন জানিয়েছিলেন বিধায়ক। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্যের পর্যটন দফতরের তরফে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুর ব্যারেজকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যে দাবি ছিল, এবার তা প্রশাসনিক স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছল। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বেশ কিছু বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। প্রথমত, ব্যারেজ এলাকায় এই ধরনের পর্যটন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক এবং পরিবেশগত সম্ভাব্যতা কতটা রয়েছে, তা দেখা হবে। দ্বিতীয়ত, জলক্রীড়া কেন্দ্র তৈরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী এবং জলাধারকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের জন্য নৌবিহার বা অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস চালু করতে হলে প্রশিক্ষিত কর্মী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, পরিবেশের উপর যাতে কোনও নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশই হল ইকো-ট্যুরিজম পার্ক। অর্থাৎ, পর্যটন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে এই প্রকল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

দুর্গাপুর ব্যারেজে এবার নৌবিহার, জেট স্কি ! বড় পর্যটন প্রকল্পের উদ্যোগ
দুর্গাপুর ব্যারেজে পর্যটনের মেগা পরিকল্পনা ! জেলাশাসককে সমীক্ষার নির্দেশ                                                                                       AI IMAGE

অন্যদিকে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জলক্রীড়া কেন্দ্র চালু হলে প্রশিক্ষক, নিরাপত্তাকর্মী, নৌযান পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য পরিষেবার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম পার্ককে কেন্দ্র করে ছোট ব্যবসা, খাবারের দোকান, স্থানীয় হস্তশিল্প এবং অন্যান্য পর্যটননির্ভর পরিষেবারও প্রসার ঘটতে পারে। অর্থাৎ, একটি পর্যটন প্রকল্প শুধু পর্যটকদের আকর্ষণ করবে না, তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে স্থানীয় অর্থনীতিও। এই বিষয়ে দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সরকারের কাছে করা আবেদনে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন দুর্গাপুরের পর্যটন সম্ভাবনা বাড়বে, তেমনই কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্গাপুর ব্যারেজকে আরও সুন্দর এবং আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে পশ্চিম বর্ধমানের পর্যটন মানচিত্রে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হতে পারে। তবে এখনই প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ঘোষণা হচ্ছে না। প্রথমে সমীক্ষা হবে। সেই সমীক্ষায় প্রকল্পের বাস্তবায়নযোগ্যতা, পরিবেশগত দিক, পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। সমীক্ষার রিপোর্ট ইতিবাচক হলে তৈরি হবে ডিপিআর। তারপর সরকারি অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে। তাই আপাতত নজর সেই সমীক্ষা রিপোর্টের দিকে। দুর্গাপুর ব্যারেজে প্রতিদিন বহু মানুষ আসেন। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলিতে ব্যারেজ এবং দামোদর নদ সংলগ্ন এলাকায় ভিড় বাড়ে। প্রাকৃতিক পরিবেশ, জল এবং খোলা জায়গার কারণে এই এলাকা ইতিমধ্যেই মানুষের কাছে আকর্ষণীয়। এবার যদি পরিকল্পিতভাবে ইকো-ট্যুরিজম পার্ক এবং জলক্রীড়া কেন্দ্র তৈরি করা যায়, তাহলে পর্যটকদের কাছে এই জায়গার আকর্ষণ আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে। শুধু দুর্গাপুর বা পশ্চিম বর্ধমান নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা এবং রাজ্যের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও পর্যটকদের এখানে টেনে আনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্প সফল করতে হলে শুধু সৌন্দর্যায়ন করলেই হবে না। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পার্কিং, পানীয় জল, শৌচাগার, বসার জায়গা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার মতো পরিকাঠামোও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে জলক্রীড়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। তাই এখন সামনে একাধিক ধাপ। প্রথমে হবে সমীক্ষা। তারপর রিপোর্ট। রিপোর্ট ইতিবাচক হলে ডিপিআর। এরপর সরকারি অনুমোদন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের এখনও বেশ কিছু পথ বাকি। তবুও প্রশাসনিক স্তরে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ জারি হওয়াকে বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শিল্পনগরী দুর্গাপুরের পরিচিতির সঙ্গে এবার যদি পর্যটনের নতুন পরিচয় যোগ হয়, তাহলে বদলে যেতে পারে শহরের পর্যটন মানচিত্র। দুর্গাপুর ব্যারেজে নৌবিহার, কায়াকিং, প্যাডেল বোট, জেট স্কি—আর তার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম পার্ক। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দামোদরের পাড়ে তৈরি হতে পারে নতুন পর্যটন আকর্ষণ। এখন প্রশ্ন একটাই—সমীক্ষার রিপোর্ট কতটা ইতিবাচক হয় এবং কবে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ শুরু হয়? দুর্গাপুর ব্যারেজ কি সত্যিই আগামী দিনে পশ্চিম বর্ধমানের অন্যতম বড় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠবে? উত্তর মিলবে প্রশাসনিক সমীক্ষা এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তে। তবে আপাতত সরকারের এই উদ্যোগ ঘিরে আশার আলো দেখছেন দুর্গাপুরবাসী থেকে পর্যটনপ্রেমীরা। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে পর্যটনের প্রসার, অন্যদিকে কর্মসংস্থান—দুই দিক থেকেই দুর্গাপুর ব্যারেজ পেতে পারে নতুন পরিচয়।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram