মতুয়াদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে কেন্দ্র, হুঁশিয়ারি মমতা বালা ঠাকুরের

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
চুঁচুড়া: শুক্রবার হুগলির চুঁচুড়া রবীন্দ্রনগর কালিতলা এলাকায় অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের উদ্যোগে এসআইআর (স্বতন্ত্র নাগরিক নিবন্ধন) ও সিএএ (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন)-এর প্রতিবাদে এক সভার আয়োজন করা হয়। সভার প্রধান বক্তা ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ও মতুয়া সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেত্রী মমতা বালা ঠাকুর। এই সভায় কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বালা বলেন, “একটার পর একটা আইন তৈরি করে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের ধীরে ধীরে ‘গোলামে’ পরিণত করতে চাইছে কেন্দ্র। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মতুয়া সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ। মতুয়া সম্প্রদায়ের আদর্শ বিজেপি বা আরএসএসের মতাদর্শের সঙ্গে মেলে না।” তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়া আসলে এক গভীর ষড়যন্ত্র, যার মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে। ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে যে বিতর্কিত আইন তৈরি হয়েছিল, তার প্রতিবাদেই ২০০৪ সালে ঠাকুরবাড়িতে অনশনে বসেছিলেন বড়মা বীণাপাণি দেবী। সেই আন্দোলনে অংশ নেন মমতা বালা নিজেও। তিনি জানান, “দেশভাগের পর থেকেই উদ্বাস্তুদের জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন আমার শ্বশুরমশাই। সেই লড়াই আমি এগিয়ে নিয়ে যাব। আমার জীবন থাকতে এ লড়াই চলবে।” নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ১৯ অক্টোবর, বড়মা বীণাপাণি দেবীর জন্মোৎসবের দিন রাত বারোটার পর কলকাতার বুকে এক বৃহত্তর আন্দোলনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। “প্রয়োজনে আমরা দিল্লি যাব। মতুয়ারা কোনোভাবেই এই এসআইআর ও সিএএ মেনে নেবে না।” সান্তনু ঠাকুরকে নিয়ে তীব্র কটাক্ষ একই পরিবারের সদস্য বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এসআইআরের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাঁকে কটাক্ষ করে মমতা বালা বলেন, “ভালো-মন্দ সব ঘরেই থাকে। কিন্তু কখনও কখনও কুলাঙ্গার জন্ম নেয় যে গোটা জাতির ক্ষতি ডেকে আনে। ঠাকুরবাড়ির বিভীষণ হল শান্তনু ঠাকুর। তাকে সামনে রেখেই বিজেপি ও আরএসএস ধ্বংসের রূপরেখা কষেছে।” মতুয়ারা কেন এই আইন মানবে না? মমতা বালা ঠাকুর জানান, “CAA-তে আবেদন করতে গেলে ধর্মের উল্লেখ বাধ্যতামূলক। সেখানে মতুয়া বা নমশূদ্র ধর্মের কোনও স্বীকৃতি নেই। তাহলে মতুয়ারা কোথায় দাঁড়াবে?” তিনি বিজেপিকে অভিযুক্ত করেন জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য, “বিল পাসের পর মানুষ ফর্ম ফিলাপ করেনি দেখে তারা এখন হিন্দু কার্ড খেলছে। অথচ মোহন ভাগবত নিজেই বলছেন ‘হিন্দু কোনো ধর্ম নয়’। তাহলে এই কার্ড তারা কীভাবে চালাচ্ছে?”অভিযোগ করলেন দুর্নীতির— মমতা বালা ঠাকুরের অভিযোগ, বিজেপির কিছু নেতা তাদের বাড়িতে ক্যাম্প খুলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সিএএ ফর্ম পূরণ করাচ্ছে। “কোথা থেকে আসছে এত টাকা? কোথায় যাচ্ছে সেই টাকা? এটা কি মোদী-অমিত শাহের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব?”রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও প্রতিবাদ এই আইনগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে বলেন, “২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে ভোটব্যাংককে পাখির চোখ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলার মানুষ বোঝে— জবাব দেবে ব্যালটে।” তিনি আরও বলেন, “এ দেশে এখন জামা-প্যান্ট খুলে প্রমাণ করতে হচ্ছে আপনি হিন্দু না মুসলিম! স্বাধীন দেশে এরকম লজ্জাজনক অবস্থা আগে কখনও হয়নি।” নিঃশর্ত নাগরিকত্ব সভা থেকে তাঁর জোরালো দাবি, “আমরা চাই কোনও শর্ত ছাড়াই— সবার জন্য নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হোক। আইন বদলাতে হবে। কেউ নাগরিকত্ব হারালে মতুয়া মহাসংঘ তার পাশে দাঁড়াবে।”তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজ নেপালে যা হয়েছে, কাল তা ভারতেও হতে পারে। মোদী-অমিত শাহ সেটা যেন ভালো করে বুঝে রাখেন।”
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram