দণ্ডি কেটে বীরভূম থেকে তারকেশ্বরের পথে শ্রীকৃষ্ণ

শ্রীকৃষ্ণ পাল জানান, বহুদিন ধরেই তাঁর মনে ইচ্ছা ছিল দণ্ডি কেটে বাবা তারকনাথের মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়ার। দীর্ঘদিনের সেই মানত পূরণ করতেই তিনি এই কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “পথ অনেক দীর্ঘ, কষ্টও অনেক। কিন্তু বাবা তারকনাথের আশীর্বাদে সেই কষ্ট অনুভব করছি না। প্রতিটি দণ্ডিই আমার কাছে এক একটি প্রার্থনা।” তিনি আরও জানান, পুরো যাত্রা শেষ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগবে। প্রতিদিন শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করছেন। কোথাও তাড়াহুড়ো নেই। একমাত্র লক্ষ্য, সুস্থভাবে তারকেশ্বরে পৌঁছে বাবা তারকনাথের চরণে প্রণাম নিবেদন করা। শ্রীকৃষ্ণের দুই সঙ্গীও জানান, এই যাত্রা সহজ নয়। প্রতিদিনই প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টি কিংবা রাস্তার প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবুও শ্রীকৃষ্ণের দৃঢ় মানসিক শক্তি তাঁদেরও অনুপ্রাণিত করছে। তাঁরা সর্বক্ষণ তাঁর পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে চলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্তমান সময়ে এমন নিষ্ঠা ও ভক্তির নজির খুব একটা দেখা যায় না। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনের মাঝেও একজন যুবক নিজের বিশ্বাসকে এতটা গুরুত্ব দিয়ে এই কঠিন ব্রত পালন করছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। অনেকেই বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয় হলেও এই ধরনের আত্মনিয়োগ মানুষের মানসিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, দণ্ডি কাটা শুধু একটি আচার নয়, এটি আত্মসংযম, ত্যাগ এবং ঈশ্বরের প্রতি গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ পথ জুড়ে শরীরকে কষ্ট দিয়ে ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এর মাধ্যমে তাঁরা নিজের মানত পূরণ করেন এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করেন। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এই প্রথার প্রচলন বহুদিনের। দুর্গাপুরের আড়া এলাকায় শ্রীকৃষ্ণের এই যাত্রা প্রত্যক্ষ করে অনেকেই তাঁর জন্য প্রার্থনা করেন। কেউ বলেন, “বাবা তারকনাথ যেন তাঁর মনোবাসনা পূরণ করেন।” আবার কেউ বলেন, “এত কষ্ট সহ্য করে যে ভক্তি নিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন, তা সত্যিই শ্রদ্ধার যোগ্য।” শ্রীকৃষ্ণ পালের এই দীর্ঘ যাত্রা এখন শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় ব্রত নয়, বহু মানুষের কাছে তা হয়ে উঠেছে অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং অটুট বিশ্বাসের প্রতীক। প্রতিটি দণ্ডির সঙ্গে তিনি যেন নিজের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করে তুলছেন। সামনে এখনও দীর্ঘ পথ। কিন্তু তাঁর বিশ্বাস, বাবা তারকনাথের কৃপায় সমস্ত বাধা অতিক্রম করে একদিন তিনি পৌঁছে যাবেন তাঁর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। সব মিলিয়ে, বীরভূম থেকে তারকেশ্বরের উদ্দেশে দণ্ডি কেটে চলা শ্রীকৃষ্ণ পালের এই কঠিন সাধনা আজ বহু মানুষের মনে ভক্তি, শ্রদ্ধা এবং অনুপ্রেরণার সঞ্চার করেছে। দুর্গাপুরের আড়া এলাকায় তাঁর এই যাত্রাপথ যেন স্মরণ করিয়ে দিল— দৃঢ় বিশ্বাস, ধৈর্য এবং আত্মনিবেদন থাকলে কঠিন পথও অতিক্রম করা সম্ভব।
