দুর্গাপুরে নো পার্কিংয়ে কড়া ট্রাফিক অভিযান, এবার স্পটেই জরিমানা

রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর থেকেই দুর্গাপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় নো-পার্কিং জোনে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বাজার এলাকা, হাসপাতাল, স্কুল, অফিসপাড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—যান চলাচলকে আরও নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখা। ট্রাফিক বিভাগের দাবি, অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে শুধু যানজটই তৈরি হয় না, অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত রাস্তায় বা মোড়ের কাছে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখলে অন্য গাড়ির চালকদের দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। শুক্রবারের অভিযানে একটি নতুন উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এবার থেকে নো-পার্কিংয়ের কারণে জরিমানা হলে সেটি অন-দ্য-স্পট, অর্থাৎ ঘটনাস্থলেই পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন গাড়িচালকরা। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে গাড়িচালকদের আর পরে আলাদা করে জরিমানা জমা দিতে হবে না। ডিজিটাল পেমেন্ট বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সঙ্গে সঙ্গেই জরিমানা মিটিয়ে দেওয়া যাবে। এতে যেমন সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে, তেমনি জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত এবং স্বচ্ছ হবে বলে মনে করছে ট্রাফিক বিভাগ। অধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে আরও ডিজিটাল পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের বক্তব্য, এই অভিযান কোনও একদিনের কর্মসূচি নয়। আগামী দিনেও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একইভাবে অভিযান চলবে। যেখানে নো-পার্কিং নিয়ম ভাঙা হবে, সেখানেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁরা আরও জানান, শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে শুধুমাত্র পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত প্রয়োজন। সবাই যদি নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখেন এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে শহরের যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও ট্রাফিক বিভাগের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বাজার এলাকা এবং ব্যস্ত রাস্তায় অবৈধ পার্কিং দীর্ঘদিনের সমস্যা। নিয়মিত অভিযান হলে অনেকটাই শৃঙ্খলা ফিরবে। তবে কিছু গাড়িচালকের মতে, শহরে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আরও বাড়ানো দরকার। কারণ অনেক সময় নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা না থাকায় বাধ্য হয়েই রাস্তার পাশে গাড়ি রাখতে হয়। এই বিষয়টিও প্রশাসনের বিবেচনায় আনা উচিত বলে মত তাঁদের। সব মিলিয়ে দুর্গাপুর ট্রাফিক বিভাগের এই বিশেষ অভিযান শহরে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টারই অংশ। সচেতনতা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা—এই তিন দিককে গুরুত্ব দিয়েই এগোতে চাইছে ট্রাফিক বিভাগ। এখন দেখার বিষয়, নিয়মিত অভিযান এবং অন-দ্য-স্পট জরিমানা ব্যবস্থার ফলে নো-পার্কিং জোনে গাড়ি দাঁড় করানোর প্রবণতা কতটা কমে এবং দুর্গাপুর শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় তার কতটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
