'গুন্ডা দমন আইন' নিয়ে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করলেন বিজেপি বিধায়ক

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়াকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত হল একটি গেট মিটিং। আর সেই সভা থেকেই শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা, শ্রমিক অধিকার এবং শিল্পের পরিবেশ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি কারখানার সামনে অনুষ্ঠিত এই গেট মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক, দলীয় কর্মী এবং স্থানীয় নেতৃত্ব। শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়েই বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কারখানার গেটের সামনে কোনও ধরনের জঙ্গি আন্দোলন, অরাজকতা বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো পরিস্থিতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করার অধিকার সকলের রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই হওয়া উচিত। কিন্তু সেই আন্দোলনের নামে যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয় অথবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তাহলে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেই একই নীতি দলীয় কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। তাই বিজেপির কর্মীদের উদ্দেশেও তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বা আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিধায়কের বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে আইনের প্রয়োগ হওয়া উচিত নয়। তাই দলের কর্মীদেরও তিনি সংযম বজায় রাখার এবং আইন মেনে আন্দোলন করার আহ্বান জানান। শ্রমিকদের দাবি প্রসঙ্গে চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শিল্পাঞ্চলে কোনও শ্রমিকের শোষণ বরদাস্ত করা হবে না। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা এবং সম্মানের সঙ্গে কাজ করার অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠান যদি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে সেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে শিল্পপতিদের প্রতিও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, শিল্প চালাতে গেলে শুধু উৎপাদন বা লাভের কথা ভাবলেই হবে না। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের স্বার্থ এবং এলাকার সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয়েও শিল্প কর্তৃপক্ষকে সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে।
'গুন্ডা দমন আইন' নিয়ে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করলেন বিজেপি বিধায়ক
শ্রমিক শোষণ নয়, আবার জঙ্গি আন্দোলনও নয় ! শিল্পাঞ্চলে চন্দ্রশেখরের বার্তা

চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, শিল্প ও শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক। একজন ছাড়া অন্যজনের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তাই সংঘাত নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলে কোনও সমস্যা তৈরি হলে তার সমাধানের একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক কাঠামো রয়েছে। সেই কাঠামো মেনেই সমস্যার সমাধান করা উচিত। এই প্রসঙ্গেই শিল্পপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে সরাসরি শিল্পমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। কারণ স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো ধারণা থাকে স্থানীয় প্রশাসন এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিদের। নিজের বক্তব্যে তিনি একটি প্রবাদও ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া চলবে না।” অর্থাৎ স্থানীয় স্তরকে এড়িয়ে সরাসরি সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাওয়ার প্রবণতা শিল্পাঞ্চলের সুস্থ পরিবেশের জন্য ইতিবাচক নয়। বিধায়কের দাবি, সমস্যার সমাধানে একটি “থ্রি লেয়ার সিস্টেম” বা তিন স্তরের সমন্বয় প্রয়োজন। তাঁর ব্যাখ্যায়, প্রথম স্তরে থাকবে স্থানীয় শিল্প কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের আলোচনা, দ্বিতীয় স্তরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্ব এবং তৃতীয় স্তরে প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ। এই সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব বলেই তাঁর মত। তিনি আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে যেমন নতুন বিনিয়োগ আসবে, তেমনই কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। কিন্তু অশান্তি, সংঘাত বা দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিল্প, শ্রমিক এবং স্থানীয় অর্থনীতির উপর। সভায় উপস্থিত শ্রমিকদের উদ্দেশেও তিনি আহ্বান জানান, নিজেদের দাবি অবশ্যই তুলুন, কিন্তু তা যেন আইন মেনে এবং শান্তিপূর্ণভাবে হয়। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হলে সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিজেপির শ্রমিক সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার কৌশলের অংশ হিসেবেই এই গেট মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মঞ্চ থেকেই শ্রমিকদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন বিধায়ক। তবে এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলন, শিল্পপতিদের ভূমিকা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের গুরুত্ব—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে সামনে এনে যে বার্তা দিয়েছেন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, তা আগামী দিনে শিল্পাঞ্চলের রাজনীতি এবং শ্রমিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। শিল্প, শ্রমিক এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েই তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। এখন নজর, এই বার্তার পর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক আন্দোলন এবং শিল্পপতিদের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসে কি না।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram