STF-এর জালে হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
পূর্ব বর্ধমান : কথিত জঙ্গি-যোগের তদন্তে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল বেঙ্গল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁর ডিজিটাল ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবার গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা বান্ধবী বলে পরিচিত অর্পিতা সরকারকে। শুক্রবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলায় একটি বিশেষ অভিযান চালায় এসটিএফ। দীর্ঘ নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই অভিযান চালিয়ে অর্পিতাকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে এসে বর্ধমান থানায় রাখা হয়। শনিবার তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে তদন্তকারী সংস্থা। এর আগে বৃহস্পতিবার বর্ধমানের রেনেসাঁ টাউনশিপ এলাকা থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে জঙ্গি-যোগের একাধিক সূত্র সামনে আসে। আদালত হামিমকে ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতে পাঠায়, যাতে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চালানো যায়। তদন্তকারীদের দাবি, হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস খতিয়ে দেখা হয়। সেখান থেকেই সামনে আসে অর্পিতা সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য। তদন্তকারীদের হাতে এসেছে তাঁদের কথোপকথনের একাধিক ডিজিটাল চ্যাট এবং যোগাযোগের রেকর্ড, যা বর্তমানে ফরেন্সিক বিশ্লেষণের আওতায় রয়েছে। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিম এবং অর্পিতার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তবে সেই যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের আড়ালে অন্য কোনও উদ্দেশ্য কাজ করছিল কি না অথবা কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে এই যোগাযোগের সম্পর্ক রয়েছে কি না। তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব। এসটিএফ-এর প্রাথমিক সন্দেহ, হামিম যে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ, অর্পিতারও সেই নেটওয়ার্কের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে এই মুহূর্তে তদন্তকারীরা কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছননি। অর্পিতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং ডিজিটাল প্রমাণ যাচাইয়ের পরেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে, যা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এসটিএফ-এর প্রাথমিক অনুমান, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের টার্গেট করে তথাকথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ কৌশল ব্যবহার করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা এই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন যে, অর্পিতার ভূমিকা সেই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না।
STF-এর জালে হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার !
হামিমের ডিজিটাল চ্যাটে মিলল নতুন নাম, STF-এর জালে অর্পিতা

তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেনি। ফলে ‘হানি ট্র্যাপ’ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যই এই মুহূর্তে তদন্তকারীদের সন্দেহ এবং অনুসন্ধানের অংশমাত্র। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও ব্যক্তিকে দোষী বলা যায় না। এসটিএফ এখন অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানতে চাইছে, হামিমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল, তাঁরা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাঁদের কথোপকথনের উদ্দেশ্য কী ছিল। পাশাপাশি বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, আন্তর্জাতিক মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং আর কোনও ব্যক্তি এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত আছেন কি না, তাও জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের মতে, ডিজিটাল ফরেন্সিক রিপোর্ট এই মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। মোবাইল ফোন, ক্লাউড স্টোরেজ, এনক্রিপ্টেড চ্যাট, ই-মেল এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করে যোগাযোগের প্রকৃত চিত্র তুলে আনার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সংস্থারও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে জঙ্গি সংগঠনগুলি সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। তাই তদন্তে ডিজিটাল প্রমাণের গুরুত্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিটি চ্যাট, প্রতিটি কল রেকর্ড এবং প্রতিটি অনলাইন কার্যকলাপ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ধমানসহ গোটা রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন। ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গেও তথ্য আদানপ্রদান চলছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে এসটিএফ কোনও তথ্যকে চূড়ান্ত বলে মানতে নারাজ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেন্সিক বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখন সকলের নজর আদালতের দিকে। অর্পিতাকে কত দিনের হেফাজতে পায় এসটিএফ, জেরায় কী কী তথ্য উঠে আসে এবং এই মামলায় আরও নতুন কোনও নাম সামনে আসে কি না, সেটাই দেখার। কারণ তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এই মামলার পরিধি শুধু একজন বা দু’জন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতেই প্রমাণ হবে কার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্য এবং কার ভূমিকা কী ছিল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত অভিযোগই তদন্তাধীন, এবং আইন অনুযায়ী প্রত্যেক অভিযুক্ত আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram