রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গি, তৎপর STF
পূর্ব বর্ধমান : রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ-এর হাতে বড় সাফল্য। পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে। ধৃতের নাম হামিদ মণ্ডল। তদন্তকারীদের দাবি, সে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে যুক্ত। এই ঘটনাকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বর্ধমান শহরে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল এই অভিযানে দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারি চালাচ্ছিল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে হামিদ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে। এসটিএফ সূত্রের দাবি, ধৃত হামিদ মণ্ডল কাশ্মীরভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে যুক্ত একটি জঙ্গি নেটওয়ার্কের সক্রিয় সদস্য। তদন্তকারীদের আরও দাবি, কাশ্মীরের সাজ্জাদ ভাট নামে এক জঙ্গি নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই যোগাযোগের সূত্র ধরেই বিভিন্ন কার্যকলাপের তথ্য সামনে এসেছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। হামিদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে কী কী নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, কতদিন ধরে সে নজরদারিতে ছিল, কিংবা তার কাছ থেকে কী কী নথি বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার হয়েছে— সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, অভিযানের সময় ধৃতের কাছ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হওয়া মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, সে একাই কাজ করছিল, নাকি তার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিল। এই গ্রেপ্তারের পর স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, রেল স্টেশন এবং জনবহুল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য এখন হামিদ মণ্ডলের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা। সে কার কার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত, কোথা থেকে নির্দেশ পেত, কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, অথবা অন্য কোনও রাজ্য বা দেশের ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল কি না— সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসটিএফ-এর দাবি, জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপ রুখতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ নিয়মিত চলছে। তারই অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ধৃতের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও অভিযান চালানো হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার ধৃত হামিদ মণ্ডলকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই বর্ধমান আদালতে তোলা হয় বলে সূত্রের খবর। তদন্তের স্বার্থে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে তদন্তকারী সংস্থা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে। তদন্তকারী সংস্থার ধারণা, হামিদ মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে তার যোগাযোগের পরিধি, সম্ভাব্য সহযোগীদের পরিচয় এবং কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এই মামলার তদন্ত এখনও চলমান। তাই তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে যে তথ্যগুলি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, সেগুলি প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনত অপরাধী নন— এই বিষয়টিও মনে রাখা প্রয়োজন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মামলায় দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জঙ্গি নেটওয়ার্ক প্রায়শই একাধিক রাজ্য বা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে কাজ করে থাকে। এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে স্থানীয় এলাকায়ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা এমন কোনও কার্যকলাপের বিষয়ে আগে অবগত ছিলেন না। অন্যদিকে, তদন্তকারী সংস্থা কোনও গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর। হামিদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে কী কী তথ্যপ্রমাণ উঠে আসে, জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে তার যোগ কতটা গভীর ছিল এবং এই মামলায় নতুন করে আর কারও নাম সামনে আসে কি না, তা আগামী দিনের তদন্তেই স্পষ্ট হবে।
