শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্তে দুর্গাপুর থানার পুলিশ

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram

দুর্গাপুর : নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে কলকাতায় অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে এবার নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ‘কুরুচিকর’ ছবি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এবার দুর্গাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে কলকাতায় যে আন্দোলন হয়েছিল, সেখানে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনের সময় তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিকর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা মতপ্রকাশের অধিকার থাকলেও কোনও সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে নিয়ে অশালীন বা কুরুচিকর উপস্থাপনা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের ছবি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কই বাড়ায় না, তা জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে। এই অভিযোগকে সামনে রেখেই দুর্গাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণের পর প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হতে পারে। তদন্তকারী আধিকারিকরা আন্দোলনের সময়কার ভিডিও ফুটেজ, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করছেন। অভিযোগে উল্লিখিত পোস্টারটি সত্যিই অভিনেত্রীর হাতে ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্তে দুর্গাপুর থানার পুলিশ
দুর্গাপুর থানায় অভিযোগের পর তদন্তের মুখে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র                                                                                                         AI IMAGE

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোনও অভিযোগ দায়ের হলেই তা অপরাধ প্রমাণ করে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা, প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং আইন অনুযায়ী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই পুলিশের দায়িত্ব। তদন্তে যদি অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ মেলে, তবেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চর্চা। একদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর ছবি প্রদর্শন কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং সাংস্কৃতিক জগতের একাধিক ব্যক্তিত্বও সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও আন্দোলনে সামিল হন। তবে সেই আন্দোলনে ব্যবহৃত একটি পোস্টারকে কেন্দ্র করেই এবার আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিবাদের নামে কোনও ব্যক্তির মর্যাদাহানি বা আপত্তিকর উপস্থাপনা করা উচিত নয়। সেই কারণেই পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবেই পরিচালিত হবে। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ, নথি এবং প্রাসঙ্গিক উপাদান খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোনও ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হচ্ছে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কেউ অভিযোগকারীর পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে বিষয়টি এখন শুধু আইনি নয়, জনপরিসরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই স্পষ্ট হবে অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোবে। আপাতত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram