তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ বিধায়ক চন্দ্রশেখরের

শুধু তাই নয়, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সম্মান এবং আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয় সভা থেকে। বক্তাদের বক্তব্য, শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে কোনও শিল্পই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রণীত নতুন শ্রম কোড কার্যকর করার দাবিও জোরালোভাবে তোলেন বিজেপি বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম আইন কার্যকর হলে শ্রমিকরা আরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা, স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা এবং আইনগত সুরক্ষা পাবেন। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি কারখানায় এই শ্রম কোড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি। চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এতদিন শ্রমিকদের অধিকারের প্রশ্নে রাজ্য সরকার আন্তরিক ছিল না। শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু শ্রমিক তাঁদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সভায় উপস্থিত শ্রমিকরাও তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, সময়মতো বেতন প্রদান, ইএসআই, পিএফ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, চিকিৎসা সুবিধা এবং অন্যান্য আইনসম্মত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য দূর করার দাবি জানানো হয়। ভারতীয় মজদুর সংঘের নেতৃত্ব জানায়, এই আন্দোলন কোনও একদিনের কর্মসূচি নয়। আগামী দিনেও শ্রমিকদের স্বার্থে বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটা হবে বলে জানানো হয়। এদিনের বিক্ষোভকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপও লক্ষ্য করা যায়। যদিও কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়। শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এই আন্দোলনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে বলে দাবি আয়োজকদের। এখন দেখার বিষয়, শ্রমিকদের এই দাবিগুলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ কিংবা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শ্রম আইন কার্যকর এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার দাবিতে এই আন্দোলন আগামী দিনে কতটা গতি পায়, সেদিকেও নজর থাকবে শিল্পমহলের।
