DSP পিপলস কো-অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ঘেরাও বিজেপির, দাবি পদত্যাগের !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : DSP পিপলস কো-অপারেটিভ ব্যাংককে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে মঙ্গলবার তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যখন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ললিত কুমার দাসের পদত্যাগের দাবিতে বিজেপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে সামিল হন এবং তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করার আল্টিমেটাম দেন। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার দুপুরে দুর্গাপুরের প্রান্তিকা পাঁচমাথা মোড়ে অবস্থিত ডিএসপি পিপলস কো-অপারেটিভ ব্যাংকে বিজেপির বহু কর্মী-সমর্থক ও নেতারা মিছিল করে পৌঁছন। এরপর তাঁরা ব্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করে সরাসরি চেয়ারম্যান ললিত কুমার দাসের দফতরে যান এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলে অবিলম্বে পদত্যাগ করার দাবি জানান। কিছু সময় ধরে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে বিজেপি নেতা-কর্মীরা ব্যাংকের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ ও স্লোগান কর্মসূচি পালন করেন। বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সমবায় ব্যাংকের পরিচালন কমিটির বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠে এসেছে। তাদের দাবি, সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা না করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যাংক পরিচালিত হয়েছে এবং পরিচালন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার মারাত্মক অভাব রয়েছে। বিজেপির আরও অভিযোগ, অতীতে ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএম ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা পরিচালন কমিটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছেন, যার ফলে প্রকৃত সদস্যদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই বর্তমান পরিচালন কমিটিকে অবিলম্বে ভেঙে দিয়ে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আইনসম্মত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পরিচালন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। আন্দোলনরত বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও এখনও বহু সমবায় প্রতিষ্ঠান পুরনো দুর্নীতিগ্রস্ত পরিচালন ব্যবস্থার অধীনেই চলছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, সমবায় ব্যাংক সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, ফলে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি বা অনিয়ম কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিজেপি নেতা সুভাষ কয়াল বলেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরও এখনও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিচালন কমিটি বহাল রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য বর্তমান পরিচালন কমিটির অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত এবং একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পরিচালন কমিটি গঠন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র পদত্যাগের আশ্বাস নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় বিজেপি। সেই কারণেই চেয়ারম্যানকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে বৃহত্তর গণআন্দোলন, ঘেরাও, বিক্ষোভ এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটারও ইঙ্গিত দেন তিনি।
DSP পিপলস কো-অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ঘেরাও বিজেপির, দাবি পদত্যাগের !
দুর্নীতির অভিযোগে DSP পিপলস কো-অপারেটিভ ব্যাংকে বিজেপির বিক্ষোভ, চেয়ারম্যানকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম !
বিজেপির দাবি, তারা কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নয়, বরং সাধারণ আমানতকারী ও ব্যাংকের সদস্যদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই আন্দোলন করছে। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ললিত কুমার দাস জানান, তিনি পদত্যাগ করতে আপত্তি করছেন না, তবে কোনও সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া সম্ভব নয়, কারণ সমবায় ব্যাংকের নিজস্ব আইন, নিয়ম ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই যদি পদত্যাগের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি অবশ্যই সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন। তিনি বলেন, আইনকে অমান্য করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় এবং নির্ধারিত বিধি অনুসারেই সমস্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। চেয়ারম্যানের এই মন্তব্যের পরেও বিজেপি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে এবং জানিয়ে দেয়, শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কার্যকর না হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে। মঙ্গলবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য ব্যাংক চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশও নজরদারি চালায়। যদিও কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেনি এবং শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে সমবায় ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হওয়ায় এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁরা মনে করছেন, যদি সত্যিই পরিচালন ব্যবস্থায় কোনও অনিয়ম থেকে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আবার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সেই বিষয়টিও পরিষ্কারভাবে সামনে আসা দরকার। ফলে বিষয়টি এখন শুধুমাত্র একটি ব্যাংককে ঘিরে রাজনৈতিক বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলির স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক পরিচালনা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন নজর থাকবে বিজেপির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যান ললিত কুমার দাস আইন মেনে পদত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু করেন কি না, নাকি বর্তমান পরিচালন কমিটি নিজেদের অবস্থান বজায় রাখে, তার উপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের পরিস্থিতি। বিজেপি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে তারা আরও বড় আন্দোলনে নামবে। অন্যদিকে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, সমস্ত সিদ্ধান্ত আইন ও নিয়ম মেনেই নেওয়া হবে। ফলে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এখন এই সমবায় ব্যাংককে ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সাধারণ মানুষ, আমানতকারী, রাজনৈতিক মহল এবং প্রশাসনের।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram