বড় সাফল্য কোক ওভেন থানার, কেপমারিতে ধৃত বিহারের ২ ভাই !

তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পর কোক ওভেন থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় অভিযুক্তদের। সেই জেরাতেই একে একে বেরিয়ে আসে চুরির ঘটনার বিস্তারিত তথ্য। অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় চুরি যাওয়া ব্যাগ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্র দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ক্ষতিগ্রস্তরা। বিশেষ করে ওই বৃদ্ধার কাছে তাঁর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফিরে আসা ছিল অত্যন্ত আবেগের মুহূর্ত। কারণ, টাকা-পয়সার পাশাপাশি তাঁর চশমা, বাড়ির চাবি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসও ওই ব্যাগেই ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তারা এর আগে অন্য কোথাও একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, এই দুই অভিযুক্তের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না। কোনও বড় কেপমারি চক্রের অংশ হিসেবেই তারা কাজ করছিল, নাকি নিজেরাই এই অপরাধ চালাত—সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে। শহরের ব্যস্ত বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে এভাবেই কৌশলে ব্যাগ ও মোবাইল চুরি করত তারা বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান। এদিকে কোক ওভেন থানার পুলিশের এই সাফল্যে খুশি দুর্গাপুরবাসী। শহরবাসীর মতে, দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করার ফলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বাজার এলাকায় এই ধরনের অপরাধ রুখতে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। পুলিশও জানিয়েছে, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশনসহ জনবহুল এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সিসিটিভি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
