দুর্গাপুরে NIA-র হানা, গ্রেপ্তার ১ !

দীর্ঘক্ষণ ধরে বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর তদন্তকারীরা গোলাম জামাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থে বাড়ি থেকে কিছু নথি, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এনআইএ-র এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। কেউ মোবাইলে ছবি তোলেন, কেউ আবার দূর থেকে পুরো ঘটনা দেখার চেষ্টা করেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপস্থিতি ঘিরে সকাল থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে নিউ স্টিল পার্ক এলাকা। স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন, গোলাম জামা অত্যন্ত নিরিবিলি স্বভাবের মানুষ ছিলেন। খুব বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না। তাই তাঁর বিরুদ্ধে মানব পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্তে এনআইএ-র অভিযান চালানোর ঘটনায় তাঁরা বিস্মিত। তবে তদন্তকারী সংস্থার অভিযান মানেই কোনও ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত—এমন নয়। তদন্তের মাধ্যমে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পরই আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তিকে দোষী বলা যায় না। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এনআইএ-র পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঠিক কোন মামলার সূত্র ধরে এই অভিযান, গোলাম জামার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে অথবা তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হতে চলেছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, প্রয়োজন হলে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন নথি ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা হবে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের তরফেও পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। অভিযানের সময় যাতে কোনও আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। গোলাম জামাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাঁকে আদালতে কবে পেশ করা হবে এবং তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে—সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুর্গাপুরবাসী।
