গরু পাচার রুখে দেওয়ায় পুলিশকে মিষ্টিমুখ বিজেপি যুবনেতার

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : বিহার থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে গরু পাচারের অভিযোগে একটি ট্রাক আটক করে বড়সড় সাফল্য পেল দুর্গাপুর থানার ফরিদপুর ফাঁড়ির পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে নিয়মিত নাকা তল্লাশির সময় সন্দেহজনক একটি গরু বোঝাই ট্রাকের গতিবিধি নজরে আসে পুলিশের। এরপরই ট্রাকটিকে থামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রাকের ভিতরে গাদাগাদি করে রাখা ছিল মোট ২১টি গরু। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, বিহার থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে গরুগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ট্রাক আটক করার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকেই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গরুগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পাশাপাশি ট্রাকটির বৈধ কাগজপত্র, গরু পরিবহনের অনুমতি এবং গোটা পরিবহণ চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে একটি বড় পাচার চক্র জড়িত থাকতে পারে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে অন্য জেলার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর সোমবার সকালে ফরিদপুর ফাঁড়িতে পৌঁছান বিজেপি যুব নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি পুলিশের এই অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুসীম সরকার-সহ কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের মিষ্টি খাইয়ে অভিনন্দন জানান তিনি।
গরু পাচার রুখে দেওয়ায় পুলিশকে মিষ্টিমুখ বিজেপি যুবনেতার
২১টি গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২—পুলিশকে অভিনন্দন জানালেন পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়

পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, পুলিশের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন পর গরু পাচার রোধে এ ধরনের কড়া এবং সফল অভিযান দেখা গেল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বেআইনি পাচার রুখতে পুলিশ যেভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাতেই তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা ফাঁড়িতে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী রাজ্য থেকে বিভিন্ন সময়ে গরু পাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের অপরাধ রুখতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের এই অভিযান ভবিষ্যতে পাচারকারীদের কাছে কড়া বার্তা দেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জাতীয় সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সন্দেহজনক যানবাহনের উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে রাতের সময় নাকা চেকিং আরও জোরদার করা হবে যাতে কোনওভাবেই বেআইনি পশু পাচার, মাদক পাচার বা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটতে না পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও পুলিশের এই তৎপরতার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের বেআইনি পাচারের অভিযোগ উঠছিল। পুলিশের ধারাবাহিক নজরদারি বাড়লে এই ধরনের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তাঁদের বিশ্বাস। এদিকে ধৃত দুই অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি শুরু করেছে পুলিশ। আদালতের কাছে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে অভিযুক্তদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এর আগেও একই ট্রাক বা একই চক্রের মাধ্যমে গরু পাচারের ঘটনা ঘটেছে কি না। উদ্ধার হওয়া ২১টি গরুর প্রকৃত মালিকানা, পরিবহণের বৈধ নথি এবং গন্তব্যস্থল সম্পর্কেও বিস্তারিত তদন্ত চলছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। পুলিশের এই সাফল্যকে ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় সড়কে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হলে শুধু গরু পাচার নয়, অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও অনেকটাই কমে আসবে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram