This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : বর্ষা নামলেই কাঁকসা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের কাছে একটাই আতঙ্ক—কুনুর নদীর ওপর নির্মিত অস্থায়ী মাটির সেতু। প্রতিবছরের মতো এবারও টানা বর্ষণের জেরে নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভেসে গিয়েছে এই অস্থায়ী সেতু। ফলে আকন্দারা, জেমুয়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে। এ যেন নতুন কোনও ঘটনা নয়। বছরের পর বছর একই ছবি দেখা যাচ্ছে। বর্ষা এলেই সেতু ভেসে যায়, আর কয়েক মাস ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। অথচ আজও তৈরি হয়নি একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু। এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতেই এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছেন দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় তিনি দাবি জানান, কুনুর নদীর ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা হোক, যাতে প্রতি বছর বর্ষাকালে সাধারণ মানুষকে একই সমস্যার মুখে না পড়তে হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, এই রাস্তা শুধুমাত্র একটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়। এটি দুর্গাপুর, কাঁকসা, বীরভূম এবং দুর্গাপুর-ফরিদপুর এলাকার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। সেতুটি সচল থাকলে কয়েকটি গ্রাম থেকে দুর্গাপুর শহরে পৌঁছতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ কম অতিক্রম করতে হয়। ফলে সময় যেমন বাঁচে, তেমনি যাতায়াতের খরচও কমে। কিন্তু বর্ষার সময় অস্থায়ী সেতু ভেসে যাওয়ার পর সেই সুবিধা আর থাকে না। তখন সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ঘুরপথ ব্যবহার করতে হয়। ফলে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক—সবাইকে অতিরিক্ত সময় এবং অর্থ ব্যয় করে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন অসুস্থ রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। কারণ এই রাস্তা ব্যবহার করেই দ্রুত দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল, দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয় এবং শহরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো সম্ভব হয়। সেতু ভেসে যাওয়ার পরে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছতে অনেক বেশি সময় লেগে যায়।
১৫ কিমি ঘুরপথের যন্ত্রণা, কুনুরে স্থায়ী সেতু চাইলেন বিধায়ক
অনেক সময় অ্যাম্বুল্যান্সকেও দীর্ঘ বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। স্থানীয় কৃষকদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। কৃষিজ পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হওয়ায় পরিবহণ খরচ বেড়ে যায়। একইভাবে ছোট ব্যবসায়ী এবং দৈনিক যাতায়াতকারী শ্রমিকদেরও প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহু বছর ধরে স্থায়ী সেতুর দাবি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবছর বর্ষার আগে অস্থায়ীভাবে মাটির সেতু তৈরি করা হয়, আর বর্ষার জলে সেটি ভেসে যায়। তারপর আবার শুকনো মরশুমে নতুন করে অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়। এই চক্র বছরের পর বছর ধরে চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। স্থানীয়দের মতে, কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় হলেও এত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এখনও বাস্তবায়িত না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রতি বছর একই সমস্যায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা এলেই হাজার হাজার মানুষ কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তিনি আরও বলেন, এই সমস্যা শুধুমাত্র যাতায়াতের নয়, এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত। তাই দ্রুত একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে। একই সঙ্গে দুর্গাপুর ও কাঁকসা-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও একটাই দাবি—অস্থায়ী সমাধান নয়, এবার স্থায়ী সেতু চাই। তাঁদের মতে, প্রতি বছর একই দুর্ভোগ আর দেখতে চান না তাঁরা। বর্ষা এলেই যাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়, সেই লক্ষ্যেই দ্রুত কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। এখন নজর রাজ্য সরকারের দিকে। বিধানসভায় উত্থাপিত এই দাবির পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই দেখার। কারণ একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে শুধু কয়েকটি গ্রামের মানুষই নন, উপকৃত হবেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। সহজ হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিত্যদিনের যাতায়াত।