দণ্ডী কেটে বারাবনি থেকে তারকেশ্বর, ভক্তির নজির হরেকৃষ্ণর

এই কঠিন পথচলায় হরেকৃষ্ণ জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তারকেশ্বর মন্দিরে পৌঁছনোর আশা করছেন। সেখানে বাবা তারকনাথের চরণে প্রণাম জানিয়ে মানত পূর্ণ করবেন। শ্রাবণ মাসে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত তারকেশ্বরের পথে রওনা দেন। কেউ কাঁধে কাঁভার নিয়ে হাঁটেন, কেউ আবার পদযাত্রা করেন। কিন্তু দণ্ডী কেটে ১৮০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার মতো দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। তাই হরেকৃষ্ণের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। যাত্রাপথে রাস্তার দু’ধারে বহু মানুষ দাঁড়িয়ে তাঁকে উৎসাহ দিচ্ছেন। কেউ জল তুলে দিচ্ছেন, কেউ বিশ্রামের ব্যবস্থা করছেন, আবার কেউ ভক্তিভরে প্রণাম জানিয়ে তাঁর এই নিষ্ঠার প্রশংসা করছেন। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, বর্তমান সময়ে যখন মানুষ দ্রুত ফল পাওয়ার প্রত্যাশায় অভ্যস্ত, তখন হরেকৃষ্ণের মতো একজন মানুষ কঠোর তপস্যা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে ভক্তির এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করছেন। হরেকৃষ্ণের এই যাত্রা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি মানসিক দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস এবং অটুট বিশ্বাসেরও প্রতীক। তাঁর এই সংকল্প নতুন প্রজন্মের কাছেও এক অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করছে। শ্রাবণ মাসে বাবা ভোলানাথের প্রতি ভক্তি প্রকাশের নানা রীতি রয়েছে। কেউ উপবাস পালন করেন, কেউ জলাভিষেক করেন, আবার কেউ দীর্ঘ পদযাত্রা করেন। সেই ধারার মধ্যেই হরেকৃষ্ণের দণ্ডী যাত্রা এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। যাত্রাপথে শারীরিক কষ্ট থাকলেও তাঁর মুখে ক্লান্তির ছাপের বদলে রয়েছে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস। প্রতিটি দণ্ডী কাটার সঙ্গে সঙ্গে তিনি উচ্চারণ করছেন ‘হর হর মহাদেব’ এবং ‘জয় বাবা তারকনাথ’। সেই ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠছে পথ। স্থানীয়দের মতে, হরেকৃষ্ণের এই ভক্তি এবং মানসিক শক্তি সত্যিই বিরল। তাঁর এই যাত্রা শুধু বারাবনি নয়, আশপাশের এলাকাতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই তাঁর জন্য প্রার্থনা করছেন, যাতে তিনি নিরাপদে এবং সফলভাবে তারকেশ্বরে পৌঁছে মানত পূর্ণ করতে পারেন। শ্রাবণের পবিত্র মাসে এমন ভক্তির নিদর্শন ধর্মীয় আবহকে আরও গভীর করে তুলেছে। মানুষের বিশ্বাস, নিষ্ঠা আর ঈশ্বরের প্রতি অটুট আস্থাই হরেকৃষ্ণকে এই কঠিন পথ চলার শক্তি জোগাচ্ছে।
