খুঁটিপুজোর মধ্যেই উর্বশী সর্বজনীনের দুর্গোৎসবের সূচনা

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : শহরে দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। শ্রাবণের আবহেই উৎসবের প্রথম আনুষ্ঠানিক পর্বের সূচনা করল সিটি সেন্টারের উর্বশী সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। রবিবার সকালে ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং উৎসবের আবেগকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠিত হল খুঁটিপুজো। ঢাকের তালে, শঙ্খধ্বনির শুভ ধ্বনিতে এবং বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এই বছরের খুঁটিপুজো। সকাল থেকেই পুজো মণ্ডপ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন উদ্যোক্তা, কমিটির সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি এবং এলাকার বহু বাসিন্দা। সকলের উপস্থিতিতে দেবী দুর্গার আগমনের শুভ সূচনার প্রার্থনা করা হয়। দুর্গাপুরের অন্যতম জনপ্রিয় এবং দর্শকপ্রিয় এই পুজো এ বছর ২৩তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উর্বশী সর্বজনীন দুর্গাপুজো শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং দুর্গাপুরবাসীর আবেগ, সংস্কৃতি এবং শিল্পচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতি বছরই নতুন নতুন ভাবনা, অভিনব থিম এবং নজরকাড়া মণ্ডপ নির্মাণের মাধ্যমে দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে এই পুজো। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবারও বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে উদ্যোক্তারা। এবারের দুর্গাপুজোর মূল থিম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘মঙ্গল ঘট’। ভারতীয় সংস্কৃতি ও হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মঙ্গল ঘট শুভ শক্তি, সমৃদ্ধি, পবিত্রতা এবং মঙ্গলময়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ভাবনাকেই শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছে পুজো কমিটি। উদ্যোক্তাদের দাবি, শুধু মণ্ডপ নয়, আলোকসজ্জা, প্রবেশপথ, পরিবেশ নির্মাণ এবং দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা—সবকিছুর মধ্যেই ফুটে উঠবে ‘মঙ্গল ঘট’-এর দর্শন। ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আধুনিক শিল্পকলার এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করার চেষ্টা করা হবে এবারের আয়োজনে। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে মণ্ডপ নির্মাণের অভিনব উপকরণ। উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নারকেলের বিভিন্ন অংশ এবং নারকেলজাত উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হবে গোটা মণ্ডপের বড় একটি অংশ। পরিবেশবান্ধব উপাদানের ব্যবহার যেমন থাকবে, তেমনই থাকবে শিল্পীদের সৃজনশীলতার অনন্য প্রকাশ।
খুঁটিপুজোর মধ্যেই উর্বশী সর্বজনীনের দুর্গোৎসবের সূচনা
ঐতিহ্য ও নতুন ভাবনার মেলবন্ধন, ২৩তম বর্ষে উর্বশী সর্বজনীন

এই অভিনব নির্মাণশৈলী দর্শনার্থীদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করবে বলেই আশাবাদী পুজো কমিটির সদস্যরা। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলোর ব্যবহার এবং নান্দনিক সজ্জাও থাকবে বিশেষভাবে পরিকল্পিত। খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার বিধায়ক চন্দ্রশেখর ব্যানার্জি এবং দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘোড়ুই। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুজো কমিটির সভাপতি তথা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সন্দীপ দে, শহরের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা এবং পুজো কমিটির সদস্যরা। অতিথিরা খুঁটিপুজোর মাধ্যমে পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং উদ্যোক্তাদের শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি এবারের থিম ও পরিকল্পনারও প্রশংসা করেন তাঁরা। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র একটি সুন্দর মণ্ডপ তৈরি করাই নয়, দর্শনার্থীদের এমন একটি পরিবেশ উপহার দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য, যেখানে ধর্মীয় অনুভূতি, শিল্প, ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার সমন্বয় ঘটবে। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী দুর্গাপুরের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও এই পুজো দেখতে আসেন। সেই কথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের চলাচল, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানুষের মিলনমেলা। বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা এবং সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে এই উৎসবে অংশ নেন। সেই সম্প্রীতির বার্তাকেই আরও শক্তিশালী করে তুলতে চায় উর্বশী সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। শিল্পীদের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ধাপে ধাপে মণ্ডপ নির্মাণ, থিম বাস্তবায়ন এবং আলোকসজ্জার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে জোরকদমে। উৎসব যত এগিয়ে আসবে, ততই বাড়বে শহরের উৎসবের আমেজ। আর সেই আবহের সূচনা হয়ে গেল আজকের এই খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে। এখন অপেক্ষা শুধু মহালয়া, তারপর দেবীপক্ষ, আর তারপরই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। ২৩ বছরের ঐতিহ্য, নতুন ভাবনা, শিল্পের অভিনব উপস্থাপনা এবং দর্শকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা—এই চারটি স্তম্ভকে সামনে রেখেই এবারের আয়োজনকে আরও সফল করে তুলতে প্রস্তুত উর্বশী সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। দুর্গাপুরবাসীর প্রত্যাশা, এবারও শহরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে সিটি সেন্টারের উর্বশী সর্বজনীন দুর্গাপুজো। ‘মঙ্গল ঘট’-এর শুভ বার্তা, পরিবেশবান্ধব মণ্ডপ নির্মাণ এবং নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে এবারের পুজো নিঃসন্দেহে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেবে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram