This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
অন্ডাল : পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল ব্লকের উখড়া। শুক্রবার সকালে এই এলাকার প্রধান সড়ক ঘিরে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারে থাকা একাধিক মাছের আড়ত থেকে বর্জ্য ও নোংরা জল সরাসরি প্রধান সড়কে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। স্থানীয়দের দাবি, উখড়ার বাজপাই মোড় থেকে স্কুল মোড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশে রয়েছে একাধিক মাছের আড়ত। প্রতিদিন ভোরে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছবোঝাই গাড়ি এসে পৌঁছায়। মাছ নামানোর পর পরিষ্কারের নামে আড়ত থেকে বের হওয়া নোংরা জল ও মাছের বর্জ্য সরাসরি রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ফলে রাস্তার উপর তৈরি হচ্ছে পিচ্ছিল পরিবেশ। দুর্গন্ধে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বহু ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। নোংরা জলের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা চলছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। বরং দিন দিন সমস্যার মাত্রা আরও বাড়ছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাছের বর্জ্য মিশ্রিত জল রাস্তায় জমে থাকায় পিচ রাস্তারও ক্ষতি হচ্ছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকারি সম্পত্তিরও ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই শুক্রবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। হাতে ঝাড়ু নিয়ে নিজেরাই রাস্তা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই প্রতীকী কর্মসূচি। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াতই নয়, উখড়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা এবং উল্টো রথের শোভাযাত্রাও এই পথ দিয়েই যায়। প্রতিবছর হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী এই রাস্তায় ভিড় করেন। অভিযোগ, রথযাত্রার আগে আড়ত মালিকদের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল যাতে অন্তত উৎসবের সময় রাস্তায় নোংরা জল না ফেলা হয়। কিন্তু সেই অনুরোধও মানা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে ধর্মীয় উৎসবের মর্যাদা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ—দুই-ই উপেক্ষিত হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
রথযাত্রার পথেই নোংরা জল ! প্রতিবাদে সরব উখড়ার বাসিন্দারা
বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন উখড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মিনা কোলে। তিনি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পঞ্চায়েত প্রধান জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। এর আগেই মাছের আড়ত মালিকদের বিকল্প জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, খুব দ্রুত যদি আড়ত মালিকেরা নির্দিষ্ট ড্রেনেজ বা বিকল্প বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে মাছের আড়ত মালিকদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য জানা গেলে সেই তথ্যও সামনে আসবে। এলাকাবাসীর দাবি, এটি শুধু একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় মাছের নোংরা জল পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ, মশার উপদ্রব এবং সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ছে। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা। স্থানীয়দের মতে, মাছের আড়ত এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সমানভাবে জরুরি। আধুনিক বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরি করা হলে যেমন পরিবেশ রক্ষা হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের সমস্যারও সমাধান হবে। শুক্রবারের এই বিক্ষোভের মাধ্যমে মূলত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিল আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য। তাঁদের আশা, এবার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে আর রাস্তায় নোংরা জল ফেলতে দেওয়া হবে না। এদিকে, প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ।