আসানসোলে চোর সন্দেহে তিন যুবককে 'গণধোলাই' !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : শুক্রবার সকাল থেকেই এলাকায় তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। আসানসোল দক্ষিণ থানার মহিশীলা এলাকার ক্ষুদিরাম পার্ক সংলগ্ন শিমুলতোলা এলাকা। অভিযোগ, চুরির সন্দেহে তিন যুবককে আটক করে বেধড়ক মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মহিশীলা, ক্ষুদিরাম পার্ক এবং শিমুলতোলা এলাকায় একের পর এক বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটছিল। কখনও বাড়ির আর্থিংয়ের তার, কখনও আবার বিদ্যুতের সংযোগের বিভিন্ন তার উধাও হয়ে যাচ্ছিল। বারবার এই ধরনের চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক এবং ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। বাসিন্দাদের দাবি, বারবার অভিযোগ জানানো হলেও চুরির ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছিল না। অনেক পরিবারকে নতুন করে তার লাগাতে হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হচ্ছিল। দিনের পর দিন এই সমস্যায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এলাকার মানুষ। শুক্রবার সকালে তিন যুবককে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক বলে মনে হয় স্থানীয়দের। অভিযোগ, ওই তিনজনকে আটক করে তাঁদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁদের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। এরপরই উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তিন যুবককে মারধর শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। পুলিশ পৌঁছেই প্রথমে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। এরপর তিন যুবককে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিরাপদে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের তৎপরতায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। যদিও ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করে।
আসানসোলে চোর সন্দেহে তিন যুবককে 'গণধোলাই' !
চুরির সন্দেহে জনতার রোষ, তিন যুবককে উদ্ধার করল আসানসোল পুলিশ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ওই তিন যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের পরিচয়, এলাকায় আসার উদ্দেশ্য এবং সাম্প্রতিক তার চুরির ঘটনাগুলির সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তদন্তকারীরা এটাও জানতে চাইছেন, এই ধরনের চুরির পিছনে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কি না। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের তার এবং আর্থিংয়ের তার চুরির ঘটনা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই চুরি হওয়া তামার তার স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তবে এখনও পর্যন্ত এই তিন যুবকের বিরুদ্ধে তার চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা পুলিশকে জানানোই আইনসম্মত পথ। গণধোলাই বা জনতার বিচারের মতো ঘটনায় নিরীহ কেউ আক্রান্ত হতে পারেন, তাই এই ধরনের প্রবণতা রুখতে সচেষ্ট প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলির সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আটক যুবকদের সঙ্গে সেই তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। যদি তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে সেই বিষয়টিও তদন্তে স্পষ্ট হয়ে যাবে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তিকে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বারবার চুরির ঘটনার জেরে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব পুলিশের। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনায় একদিকে যেমন এলাকায় ধারাবাহিক চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে, অন্যদিকে গণধোলাইয়ের ঘটনাও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আইন-শৃঙ্খলা ও জনসচেতনতা নিয়ে। এখন নজর পুলিশের তদন্তে। আদৌ এই তিন যুবকের সঙ্গে তার চুরির কোনও যোগ রয়েছে, নাকি ভুল সন্দেহের বশেই তাঁরা গণরোষের শিকার হয়েছেন—সেই উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হলেই।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram