বেলুড় মঠের আদলে চণ্ডীদাসে দুর্গাপুজো, উল্টোরথের দিনে খুঁটিপূজো

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : আর মাত্র কয়েক মাস। তারপরই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। সেই উৎসবকে ঘিরে এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। দুর্গাপুরের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন চলছে পরিকল্পনা, তেমনই বিজোন চণ্ডীদাস এলাকায় শুরু হয়েছে এক ব্যতিক্রমী দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। এবারের পুজোর মূল আকর্ষণ হতে চলেছে বেলুড় মঠের আদলে তৈরি বিশাল মণ্ডপ। রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শ, স্বামী বিবেকানন্দের মানবসেবার দর্শন এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশকে ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যেই এই থিম নির্বাচন করেছেন উদ্যোক্তারা। মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীরা যেন অনুভব করতে পারেন শান্তি, ভক্তি এবং ঐতিহ্যের এক অপূর্ব আবহ—সেই ভাবনাকেই বাস্তব রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু থিমেই সীমাবদ্ধ নয়। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল, গোটা পুজোর পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে এলাকার মহিলাদের হাতে। পরিকল্পনা, সাংগঠনিক কাজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে পুজোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—সব ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহিলারাই। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, সমাজে নারীশক্তির অবদানকে সম্মান জানানো এবং নারীদের নেতৃত্বের ক্ষমতাকে আরও বেশি করে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। মা দুর্গা নিজেই শক্তির প্রতীক। তাই তাঁর আরাধনার উৎসবকে কেন্দ্র করেই নারীশক্তির এই অনন্য উপস্থাপনা সমাজের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে বলেই মনে করছেন আয়োজকরা। শুক্রবার উল্টো রথযাত্রার শুভক্ষণে খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এই দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজার্চনা এবং শুভ সূচনার মধ্য দিয়ে পুজো মণ্ডপ নির্মাণের প্রথম স্তম্ভ স্থাপন করা হয়। উপস্থিত সকলেই প্রার্থনা করেন, এবারের দুর্গোৎসব যেন শান্তি, সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করে। এই দুর্গাপুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা এবং এলাকার বিজেপি নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় জানান, শুধু একটি সুন্দর মণ্ডপ তৈরি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। তাঁরা এমন একটি পুজো উপহার দিতে চান, যেখানে ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একসঙ্গে ধরা পড়বে। সেই কারণেই বেলুড় মঠের আদলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুজোর প্রতিটি পর্যায়ে মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে যেমন সমাজে নারীদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে, তেমনই নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে যাবে নারী নেতৃত্বের ইতিবাচক বার্তা। খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘরুই।
বেলুড় মঠের আদলে চণ্ডীদাসে দুর্গাপুজো, উল্টোরথের দিনে খুঁটিপূজো
নারীশক্তির হাত ধরে দুর্গাপুরে শুরু দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক নেতা, কর্মী-সমর্থক এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সকলেই পুজোর সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা জানান এবং উদ্যোক্তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের বক্তব্যেও উঠে আসে, দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম বড় উৎসব। তাই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে যদি নারীশক্তির বিকাশ এবং সমাজের ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরা যায়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ইতিমধ্যেই মণ্ডপ নির্মাণের নকশা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। শুরু হয়েছে কাঠামো নির্মাণের প্রস্তুতি। ধাপে ধাপে এগোবে শিল্পীদের কাজ। মণ্ডপের পাশাপাশি থাকবে আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা, নান্দনিক পরিবেশ এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু চমকও। উদ্যোক্তাদের দাবি, বেলুড় মঠের স্থাপত্যশৈলীকে যথাসম্ভব বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি মণ্ডপের অভ্যন্তরে এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে, যাতে দর্শনার্থীরা শুধুমাত্র একটি থিম মণ্ডপ নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক অনুভূতিরও স্বাদ পান। পুজোর দিনগুলিতে থাকবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সমাজসেবামূলক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতার বার্তাও। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের জন্য থাকবে আলাদা আকর্ষণ। দুর্গাপুরে প্রতিবছরই বিভিন্ন থিমের দুর্গাপুজো দর্শকদের আকর্ষণ করে। কিন্তু এবারের বিজোন চণ্ডীদাসের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। কারণ এখানে যেমন রয়েছে আধ্যাত্মিকতার আবহ, তেমনই রয়েছে নারী নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মা দুর্গা শক্তির প্রতীক। আর সেই শক্তিকেই বাস্তব জীবনে সম্মান জানিয়ে মহিলাদের নেতৃত্বে এই দুর্গোৎসব আয়োজন নিঃসন্দেহে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করছে। উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, এই ব্যতিক্রমী ভাবনা শুধু দুর্গাপুর নয়, গোটা জেলার মানুষের মন জয় করবে। এখন অপেক্ষা শুধু মহালয়ার। তারপর ধীরে ধীরে চূড়ান্ত রূপ নেবে স্বপ্নের সেই মণ্ডপ। আর বেলুড় মঠের আদলে গড়ে ওঠা আধ্যাত্মিক পরিবেশ, ঐতিহ্যের সৌন্দর্য এবং নারীশক্তির বার্তা নিয়ে বিজোন চণ্ডীদাসের এই দুর্গাপুজো হয়ে উঠতে পারে ২০২৬ সালের দুর্গাপুরের অন্যতম দর্শনীয় আকর্ষণ।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram