ট্যাক্সি থেকে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি, গ্রেফতার চালক !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
হাওড়া : STF বা কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স পেল বড়সড় সাফল্য । নিশ্চিন্দা থানা এলাকায় গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। বুধবার গভীর রাতে নিশ্চিন্দা থানার পুলিশের সহযোগিতায় চালানো যৌথ অভিযানে একটি নীল-সাদা ট্যাক্সি থেকে বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কিছু সেমি-ফিনিশড যন্ত্রাংশ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গোপন সূত্রে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চালানো হয়। তথ্য ছিল, একটি ট্যাক্সিতে করে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে হাওড়ার অভয়নগর মাঠ সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি শুরু করে এসটিএফ এবং নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সন্দেহভাজন নীল-সাদা ট্যাক্সিটিকে চিহ্নিত করে আটক করা হয়। এরপর গাড়িটিতে তল্লাশি চালাতেই একের পর এক বেরিয়ে আসে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ট্যাক্সিচালকের নাম রাজেশ কানওয়ার। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরের অশোকগড় এলাকায়। ঘটনাস্থল থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ট্যাক্সির ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল অস্ত্রগুলি। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি ৯ এমএম পিস্তল, তিনটি ৭ এমএম পিস্তল, একটি দেশি বন্দুক, তিনটি ম্যাগাজিন এবং ২৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। শুধু তাই নয়, কয়েকটি সেমি-ফিনিশড আগ্নেয়াস্ত্রের অংশও উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এই সেমি-ফিনিশড অংশগুলি থেকে নতুন আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা সম্ভব কি না, কিংবা এগুলি কোনও অস্ত্র তৈরির চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে বলেও জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনও সাধারণ অপরাধের ঘটনা নয়। এর পিছনে একটি সুসংগঠিত অস্ত্র পাচার চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সেই কারণেই ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রগুলির উৎস, গন্তব্য এবং এই পাচার চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, সেই তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
ট্যাক্সি থেকে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি, গ্রেফতার চালক !
নীল-সাদা ট্যাক্সিতে অস্ত্রের ভাণ্ডার ! STF-এর অভিযানে গ্রেফতার চালক
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই অস্ত্রগুলি কোথা থেকে আনা হচ্ছিল, কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং এর সঙ্গে আন্তঃরাজ্য কোনও অস্ত্র পাচার চক্রের যোগ রয়েছে কি না। পাশাপাশি ধৃতের মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং সাম্প্রতিক গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই অস্ত্রগুলি যদি অপরাধীদের হাতে পৌঁছে যেত, তাহলে তা বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হতে পারত। তাই সময়মতো অভিযান চালিয়ে এই বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার হওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে পুলিশ। এদিকে অভিযানে ব্যবহৃত নীল-সাদা ট্যাক্সিটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গাড়িটি অস্ত্র পাচারের জন্য নিয়মিত ব্যবহার করা হতো কি না, অথবা অন্য কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে গাড়িটির ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হতে পারে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তাই ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাধারণ একটি নীল-সাদা ট্যাক্সির ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত থাকতে পারে, তা তাঁদের কল্পনারও বাইরে ছিল। পুলিশ ও এসটিএফ-এর দ্রুত পদক্ষেপে বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধচক্রগুলি সাধারণ যানবাহন ব্যবহার করে বেআইনি অস্ত্র পরিবহণের চেষ্টা করছে, যাতে পুলিশের নজর এড়ানো যায়। সেই কারণেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনাও সেই সতর্কতারই একটি উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের এসটিএফ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সমস্ত অস্ত্র ও কার্তুজের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এগুলি অতীতে কোনও অপরাধে ব্যবহার হয়েছে কি না, বা ভবিষ্যতে কোনও বড় অপরাধমূলক পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা জানার জন্য ব্যালিস্টিক ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি অস্ত্রগুলির নম্বর, নির্মাণের ধরন এবং উৎস সম্পর্কেও বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্তকারীরা এ-ও খতিয়ে দেখছেন, এই পাচার চক্রের সঙ্গে অন্য কোনও রাজ্য বা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে তদন্ত চলমান রয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, প্রমাণ এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram