This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
আসানসোল : কুলটি পৌরনিগমের বোরো কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগে পুলিশের আকস্মিক অভিযানে বৃহস্পতিবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই হঠাৎ করে তদন্তকারী আধিকারিকদের উপস্থিতিতে কার্যত তোলপাড় হয়ে যায় গোটা দপ্তর। পুলিশ দপ্তরে পৌঁছেই জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি রেজিস্টার, আবেদনপত্র, শংসাপত্র ইস্যুর নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রেকর্ড খতিয়ে দেখতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলে নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ। শুধু নথিই নয়, দপ্তরে কর্মরত একাধিক কর্মচারীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। বিভিন্ন প্রক্রিয়া, শংসাপত্র ইস্যুর নিয়ম এবং সাম্প্রতিক সময়ে জমা পড়া আবেদন সংক্রান্ত একাধিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পুলিশের এই আকস্মিক অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কুলটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বোরো কার্যালয়ে পরিষেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও হঠাৎ পুলিশের উপস্থিতিতে কিছুটা বিস্মিত হয়ে পড়েন। অনেকেই জানতে চান, ঠিক কী কারণে এই তদন্ত চলছে। তবে তদন্তকারী আধিকারিকরা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের নির্দেশে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র সংক্রান্ত কিছু অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও অভিযোগের প্রকৃতি কী, কতগুলি অভিযোগ জমা পড়েছে কিংবা ঠিক কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে, সে সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে সমস্ত সরকারি নথি খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু সংক্রান্ত কিছু অসঙ্গতি নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতেই তদন্তকারী দল কুলটি বোরো কার্যালয়ে পৌঁছয়। তদন্ত চলাকালীন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের বিভিন্ন রেজিস্টার, আবেদনপত্র, অনুমোদনের নথি, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং সরকারি তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে একাধিক তথ্য পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে বেশ কিছু সময়ের জন্য দপ্তরের স্বাভাবিক কাজকর্মেও প্রভাব পড়ে। পরিষেবা নিতে আসা বহু মানুষ অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগে পুলিশের হানা, জল্পনা তুঙ্গে কুলটিতে
তবে তদন্তকারীরা প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি দপ্তরের কাজ যাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখেন। এদিকে, এই ঘটনার পর এলাকায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম, জাল নথি ব্যবহার, ভুয়ো তথ্যের ভিত্তিতে শংসাপত্র প্রদান বা অন্য কোনও ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। যদিও এই মুহূর্তে এই ধরনের কোনও অভিযোগের সত্যতা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি। নাগরিকত্বের প্রমাণ, শিক্ষা, চাকরি, পাসপোর্ট, সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়ায় এই নথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এই ধরনের নথি ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম বা জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। সেই কারণেই তদন্তে কোনও রকম ত্রুটি রাখতে চাইছে না পুলিশ। প্রয়োজন হলে আরও নথি সংগ্রহ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এদিকে, পুলিশের এই অভিযানের পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে প্রতিক্রিয়া। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব পুলিশের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছে, যদি কোনও ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকারি দপ্তরের কাজে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা জরুরি এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশও মুখে কুলুপ এঁটেছে। ফলে ঠিক কী ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান, তদন্তে কী কী তথ্য মিলেছে বা ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সমস্ত নথি, তথ্য ও অভিযোগ বিস্তারিতভাবে যাচাই করার পরই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। প্রয়োজনে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর কুলটি বোরো কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের নজর আরও বেড়েছে। এখন সকলেরই নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। অভিযোগের সত্যতা কতটা, তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ও পুলিশ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেটাই এখন দেখার। উল্লেখ্য, তদন্ত চলমান থাকায় এই মুহূর্তে কোনও ব্যক্তি বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।