বাড়ি ফাঁকা, সোনা-নগদ মিলিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা লুট !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
কাঁকসা :  মাত্র দু’দিনের জন্য বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন সপরিবারে। সেই সামান্য সময়ের মধ্যেই সবকিছু যেন ওলটপালট হয়ে গেল। বাড়িতে ফিরে যা দেখলেন, তা কল্পনাও করতে পারেননি রেলকর্মী সুবীর চন্দ্র ঘোষ। রবিবার রাতে কলকাতা থেকে কাঁকসার শেরপুরে নিজের বাড়িতে ফিরে তিনি প্রথমেই লক্ষ্য করেন, বাড়ির প্রধান দরজার তালা ভাঙা। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর মনে আশঙ্কা তৈরি হয়। দ্রুত ঘরে ঢুকতেই চোখের সামনে ধরা পড়ে এক বিভীষিকাময় দৃশ্য। ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আলমারির দরজা খোলা। লকার ভাঙা। ঘরের প্রায় প্রতিটি জিনিসপত্র তছনছ করা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা মূল দরজার তালা ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আলমারির লকার ভেঙে সেখানে রাখা নগদ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত রেলকর্মী সুবীর চন্দ্র ঘোষ জানান, পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, বিভিন্ন সময়ে কেনা সোনার অলংকার এবং নগদ অর্থ মিলিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি সম্পত্তি খোয়া গিয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই ঘটনায় পরিবার শুধু আর্থিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’দিনের জন্য তাঁরা সপরিবারে কলকাতায় ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেই সময় বাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগায় দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় এর আগে ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটলেও এত বড়সড় চুরির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। ফলে এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, দিনের পর দিন নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন দুঃসাহসিক চুরি ঘটল ?
বাড়ি ফাঁকা, সোনা-নগদ মিলিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা লুট !
দু’দিনের জন্য বাড়ি ফাঁকা, ফিরে দেখলেন লণ্ডভণ্ড ঘর, দুষ্কৃতীদের হানা, ৫০ লক্ষ টাকার লুটের অভিযোগ

ঘটনার খবর পেয়ে কাঁকসা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। গোটা বাড়ি ঘুরে দেখেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। কীভাবে দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকেছিল, কোন পথ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে এবং কতজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে— সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে, দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই জানত কি না যে বাড়িটি ফাঁকা রয়েছে। কারণ, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাড়ির তালা ভেঙে সরাসরি আলমারির লকার লক্ষ্য করে চুরি চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান তদন্তকারীদের। এছাড়াও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের গতিবিধি বা সন্দেহজনক কোনও ব্যক্তি বা গাড়ির উপস্থিতি ধরা পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদেরও সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত চুরির ঘটনা। বাড়ির অবস্থান, পরিবারের অনুপস্থিতি এবং মূল্যবান সামগ্রী কোথায় রাখা রয়েছে— এসব সম্পর্কে দুষ্কৃতীদের কিছুটা ধারণা ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই কারণে স্থানীয় সূত্র এবং পরিচিত ব্যক্তিদের দিকেও নজর রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। এদিকে, এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বহু বাসিন্দা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বাড়ি ফাঁকা রেখে কোথাও যেতে হলে এখন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অনেকেই এলাকায় রাতের টহল এবং নজরদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় বাড়ি ফাঁকা রেখে বাইরে গেলে প্রতিবেশীদের জানিয়ে যাওয়া, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অ্যালার্ম ব্যবস্থা চালু রাখা এবং মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে এই ধরনের অপরাধের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। কাঁকসার শেরপুরের এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় একদিকে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্তের দিকে— কবে ধরা পড়বে এই চুরির সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীরা এবং উদ্ধার হবে কি না দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের সেই বিপুল সম্পত্তি।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram