This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : সোমবার সকাল থেকেই দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় জড়ো হতে শুরু করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। হাতে দলীয় পতাকা, বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড এবং স্লোগান দিতে দিতে তাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে প্রতীকীভাবে জুতোর মালা পরান এবং ডিম নিক্ষেপ করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য রাজনৈতিক উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়। বিজেপির দাবি, সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি নাকি বলেছেন— ২০৩১ সালে বিজেপি ক্ষমতা থেকে সরে গেলে রাজ্যে দলের সমস্ত কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এই বক্তব্যকেই ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিজেপি। দলের অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে উৎসাহিত করে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবারের প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বলে জানান বিজেপি নেতৃত্ব। বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির ওবিসি মোর্চার জেলা সম্পাদক স্বাধীন রায়। তিনি দাবি করেন, একজন সাংসদের মুখে এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত করে তুলতে পারে। স্বাধীন রায়ের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বিরোধী দলের কার্যালয় ভেঙে দেওয়ার মতো মন্তব্য কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়। সেই কারণেই প্রতীকীভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে জুতোর মালা পরিয়ে এবং ডিম নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, যদি ভবিষ্যতেও এই ধরনের বক্তব্য অব্যাহত থাকে, তাহলে বিজেপি আরও বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে নামবে এবং রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত করবে।
অভিষেকের মন্তব্যে ক্ষোভ, দুর্গাপুরে জুতোর মালা ও ডিম নিক্ষেপ
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির দুই বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই এবং জিতেন্দ্র তেওয়ারিও। তাঁরা উভয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও রাজনৈতিক হিংসা বা ভাঙচুরকে উৎসাহিত করে এমন মন্তব্য কোনওভাবেই কাম্য নয়। বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁদের অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। রাজ্যের রাজনীতিতে সম্প্রতি শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে বাকযুদ্ধ ক্রমশ তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ, বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। সেই আবহেই দুর্গাপুরের এই বিক্ষোভ নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপির এই প্রতিবাদের পর রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিজেপির উত্থাপিত অভিযোগ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা প্রেক্ষাপট নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসে, ততই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের সংঘাত বাড়তে দেখা যায়। তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক ভাষার সংযম এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিতর্ক কতটা বাড়ে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া সামনে আসে।