লরির ধাক্কায় উল্টাল পিকআপ ভ্যান, আহত ৫ শ্রমিক !

দুর্ঘটনার পর জাতীয় সড়কের আসানসোলমুখী লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একাধিক মালবাহী গাড়ি এবং ছোট গাড়ি রাস্তার উপর আটকে পড়ে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত পিকআপ ভ্যানটিকে ক্রেনের সাহায্যে রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। তবে দুর্ঘটনার পরই ঘাতক লরির চালক গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে লরির নম্বর এবং চালকের পরিচয় জানার চেষ্টা শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাতীয় সড়কের টোল প্লাজা এবং নজরদারি ক্যামেরার তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশের আশা, খুব শীঘ্রই পলাতক লরি এবং তার চালককে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে ভারী যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে যেখানে রাস্তার কাজ বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলে, সেখানে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সতর্কতা প্রয়োজন হলেও অনেক চালক তা মানেন না। ফলে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাঁদের দাবি, রাস্তায় কাজ চলাকালীন আরও বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ বোর্ড, ব্যারিকেড, ফ্ল্যাশিং লাইট এবং গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সড়কে কাজ চলার সময় ‘ওয়ার্ক জোন সেফটি’ কঠোরভাবে কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু শ্রমিকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম দিলেই হবে না, পথ দিয়ে চলা যানবাহনকেও নির্দিষ্ট গতিসীমার মধ্যে আনতে হবে। নইলে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন। এই ঘটনার পর ফের একবার সামনে এল জাতীয় সড়কে নিরাপত্তার প্রশ্ন। যেখানে রাস্তার উন্নয়নের কাজ চলছে, সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন সুরক্ষিত রাখতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে। বর্তমানে আহত পাঁচ শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন সহকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে ঘাতক লরিকে চিহ্নিত করে চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এখন তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল লরিটি এবং এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও অবহেলা ছিল কি না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এক মুহূর্তের অসাবধানতা বা অতিরিক্ত গতি পাঁচজন শ্রমিককে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও শ্রমিককে কর্মক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনার শিকার হতে না হয়, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ।
