পুলিশের অভিযানে উদ্ধার মদ-ঝাড়খণ্ড লটারি, ধৃত ২

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : রাজ্যজুড়ে বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। অবৈধ মদ, মাদক, জুয়া এবং লটারি চক্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এবার বড় সাফল্য পেল আসানসোলের কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ। একদিনে দুটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ এবং অবৈধ ঝাড়খণ্ড লটারির টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, রাজ্য পুলিশের নির্দেশে অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই সোমবার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ লছিপুর এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা তল্লাশিতে পুলিশের হাতে আসে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। প্রথম অভিযানে লছিপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই এই মদ মজুত করে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। ঘটনাস্থল থেকেই ভীম মাজি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সমস্ত মদ বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে চেষ্টা করছে, এই মদের চালান কোথা থেকে এসেছিল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত। পুলিশের অনুমান, এই অবৈধ মদের ব্যবসার সঙ্গে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অবৈধ মদের এই ব্যবসা কতদিন ধরে চলছিল, কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হতো এবং এর সঙ্গে কোনও বড় সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে কি না, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই দিনে দ্বিতীয় একটি অভিযানে আরও একটি বেআইনি কারবারের পর্দাফাঁস করে নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ। লছিপুর গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ঝাড়খণ্ড লটারির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সুরজ শাও নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঝাড়খণ্ড লটারির টিকিট, নগদ অর্থ এবং লটারি বিক্রির বিভিন্ন নথি ও সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। সমস্ত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে অনুমোদনহীন বাইরের রাজ্যের লটারি বিক্রি আইনবিরুদ্ধ। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে গোপনে এই ব্যবসা চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি এবং মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখে গোটা নেটওয়ার্কের সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশের অভিযানে উদ্ধার মদ-ঝাড়খণ্ড লটারি, ধৃত ২
মদ-লটারি চক্রে কড়া আঘাত ! নিয়ামতপুর ফাঁড়ির অভিযানে ধরা পড়ল দুই অভিযুক্ত

মঙ্গলবার ধৃত ভীম মাজি এবং সুরজ শাওকে আসানসোল জেলা আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানাবে তদন্তকারী অফিসাররা। পুলিশের মতে, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই দুই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে অবৈধ মদ সরবরাহ চক্র এবং ঝাড়খণ্ড লটারির মূল মাথাদের শনাক্ত করাই এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অবৈধ ঝাড়খণ্ড লটারির এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে পারে। শুধুমাত্র খুচরো বিক্রেতা নয়, এর পিছনে বড় নেটওয়ার্ক কাজ করছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। সেই কারণে ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অবৈধ মদ এবং বাইরের রাজ্যের লটারির ব্যবসা চলছিল। এর ফলে বহু যুবক নেশা ও জুয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছিল। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র লছিপুর নয়, নিয়ামতপুর এবং কুলটি থানার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আগামী দিনেও একইভাবে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। অবৈধ মদ, মাদক, জুয়া, লটারি, চোরাচালানসহ সব ধরনের বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি চালানো হবে। কোনও অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীন মদ বিক্রি বা মজুত করা যেমন দণ্ডনীয় অপরাধ, তেমনই অনুমতি ছাড়া বাইরের রাজ্যের লটারি বিক্রিও আইনের চোখে অপরাধ। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু বিক্রেতাই নয়, গোটা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই তদন্তে মূল চক্রীদের চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য সরকারের তরফেও সম্প্রতি বেআইনি ব্যবসার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলায় পুলিশকে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকাতেও সেই নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে। নিয়মিত তল্লাশি, গোপন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ দমনে জোর দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, একদিনে দুটি পৃথক অভিযানে অবৈধ মদ ও ঝাড়খণ্ড লটারির কারবারের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ। বিপুল পরিমাণ বেআইনি সামগ্রী উদ্ধার এবং দুই অভিযুক্তের গ্রেপ্তারকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে পুলিশের দাবি, এটিই শেষ নয়। গোটা চক্রকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। আগামী দিনেও একইভাবে অবৈধ মদ, মাদক, লটারি এবং অন্যান্য বেআইনি ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram