দুর্গাপুরে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে চলল বুলডোজার !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : শহরে সরকারি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা ADDA-র উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলা হল তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের একটি কার্যালয়। সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই দুর্গাপুরের এবিএল এলাকায় প্রশাসনের তৎপরতা নজরে আসে। বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে ছিল প্রশাসনের কড়া নজর। পরিবর্তনের বাংলায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং বেআইনি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমি দখল করে কোনও ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে স্থায়ী নির্মাণ করা আইনসিদ্ধ নয়। সেই নীতির ভিত্তিতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযান চলছে। দুর্গাপুরেও তারই অংশ হিসেবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এডিডিএ-র আধিকারিক, ভূমি দফতরের কর্মী এবং পুলিশ বাহিনী এবিএল এলাকায় পৌঁছে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুলডোজার এনে শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় ভাঙার কাজ শুরু হয়। পুরো এলাকা পুলিশ ঘিরে রাখে। স্থানীয় মানুষজন দূর থেকে এই অভিযান প্রত্যক্ষ করেন। অনেকে মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য রেকর্ড করতেও দেখা যায়। ADDA সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমির উপর নির্মিত ছিল। জমিটি সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী উন্নয়ন পর্ষদের অধীন। বহুবার সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে নোটিশ পাঠিয়ে ওই নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ফলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, এই অভিযান কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। সরকারি জমি দখলমুক্ত করা এবং আইন কার্যকর করাই একমাত্র উদ্দেশ্য। যেখানেই সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণ থাকবে, সেখানেই একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা সংগঠনের নাম দেখে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি প্রশাসনের। উচ্ছেদ অভিযানের সময় কোনও বড় ধরনের বিক্ষোভ বা অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। যদিও স্থানীয়ভাবে কিছু মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সুর শোনা যায়। তাঁদের দাবি, বহু বছর ধরে ওই কার্যালয়টি এলাকায় ছিল এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করত। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে কোনও নির্মাণ থাকা মানেই সেটি বৈধ হয়ে যায় না। সরকারি জমিতে নির্মাণ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।
দুর্গাপুরে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে চলল বুলডোজার !
সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ ! কড়া পদক্ষেপে ADDA, ভাঙা হল শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সরকারি সম্পত্তি কোনও রাজনৈতিক দলের দখলে থাকতে পারে না। আইন সবার জন্য সমান, তাই এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও চলবে। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, প্রশাসন বেছে বেছে তাদের সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে আরও বিতর্ক তৈরি হতে পারে। ADDA-র তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমির উপর গড়ে ওঠা বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নোটিশ দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকেও সরকারি জমিতে কোনও ধরনের অবৈধ নির্মাণ না করার আবেদন জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দুর্গাপুর শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত। এখানে উন্নয়নমূলক প্রকল্প, রাস্তা, পরিকাঠামো এবং নাগরিক পরিষেবা সম্প্রসারণের জন্য সরকারি জমির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই উন্নয়ন পর্ষদের দাবি, সরকারি জমি দখলমুক্ত করা উন্নয়নের স্বার্থেই জরুরি। অবৈধ দখল থাকলে ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি জমিতে কোনও স্থায়ী নির্মাণ করার আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া নির্মাণ হলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী নোটিশ দিতে পারে এবং প্রয়োজনে উচ্ছেদও করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও থাকে। মঙ্গলবারের এই অভিযান ঘিরে এলাকায় সারাদিন আলোচনা চলেছে। কেউ প্রশাসনের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন অভিযানের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে। তবে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—সরকারি জমি দখল করে কোনও ধরনের নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরের এবিএল এলাকায় তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। আর এই ঘটনাই ফের একবার স্পষ্ট করে দিল, সরকারি জমি সংক্রান্ত আইন কার্যকর করতে প্রশাসন এবার অনেকটাই কড়া অবস্থানে রয়েছে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram