মাঠে নয়, এবার মিষ্টির দোকানে মেসির জাদু ! দুর্গাপুরে অনন্য সৃষ্টি
দুর্গাপুর : বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় যখন গোটা বিশ্ব মেতে উঠেছে, তখন সেই আবেগকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিল শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর। মাঠে নয়, এবার ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি নজর কেড়েছেন মিষ্টির শরীরে। খোয়া, মিষ্টির বিভিন্ন উপকরণ এবং ফুড কালারের নিখুঁত ব্যবহারে তৈরি হয়েছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার জীবন্ত প্রতিকৃতি। আর এই অসাধারণ শিল্পকর্মের স্রষ্টা দুর্গাপুরের মামড়া বাজারের পরিচিত মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবাশীষ ঘোষ। ফুটবল মানেই আবেগ। আর সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে যদি থাকেন লিওনেল মেসি, তাহলে উন্মাদনা যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের উত্তেজনাপূর্ণ আবহে প্রিয় ফুটবলারের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিলেন দেবাশীষ। সাধারণ কোনও পোস্টার, ব্যানার কিংবা ছবি নয়, তিনি বেছে নিলেন নিজের পেশাকেই। মিষ্টির উপকরণ দিয়েই গড়ে তুললেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের প্রতিকৃতি। প্রায় দেড় কেজি খোয়া ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে এই শিল্পকর্ম। সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির উপকরণ, খাদ্যযোগ্য রং এবং সূক্ষ্ম কারুকার্যের ছোঁয়া। মেসির মুখের প্রতিটি অভিব্যক্তি, তাঁর চেনা দাড়ি, চুলের স্টাইল, চোখের গভীরতা, এমনকি আর্জেন্টিনার বিখ্যাত নীল-সাদা জার্সির রঙ পর্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। দূর থেকে একবার দেখলে মনে হবে যেন সত্যিই মেসির একটি প্রতিকৃতি সামনে রাখা রয়েছে। কাছে এলেই বোঝা যায়, পুরো শিল্পকর্মটাই তৈরি হয়েছে মিষ্টির উপকরণ দিয়ে। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই মামড়া বাজারে ভিড় জমাতে শুরু করেন ফুটবলপ্রেমী থেকে সাধারণ মানুষ। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকছেন, কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সেলফি তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন। অনেকের মুখে একটাই স্লোগান—”মেসি… মেসি…”। বিশ্বকাপের আবহে এই অভিনব সৃষ্টি যেন ফুটবল উৎসবকে আরও রঙিন করে তুলেছে। দেবাশীষ ঘোষ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনা দলের একনিষ্ঠ সমর্থক। আর মেসি তাঁর কাছে শুধুমাত্র একজন ফুটবলার নন, তিনি একজন অনুপ্রেরণা। বহু বছর ধরে মেসির খেলা দেখে বড় হয়েছেন তিনি। মাঠে মেসির লড়াই, ধৈর্য, পরিশ্রম এবং সাফল্যের গল্প তাঁকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। তাই বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের শিল্পের মাধ্যমে প্রিয় ফুটবলারের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতেই এই উদ্যোগ।

তাঁর কথায়, “বর্ষার কারণে বড় আকারে প্রতিকৃতি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। আবহাওয়ার কারণে খোয়া ও অন্যান্য উপকরণ বেশিক্ষণ ভালো রাখা কঠিন। তাই ছোট পরিসরেই এই প্রতিকৃতি তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আরও বড় আকারে এমন শিল্পকর্ম তৈরি করতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের একটাই প্রার্থনা, মেসির হাতেই উঠুক বিশ্বকাপ। তিনি আবারও ইতিহাস গড়ুন এবং গোটা ফুটবল বিশ্বকে গর্বিত করুন।” শুধু শিল্পকর্ম নয়, এই উদ্যোগের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে একজন ভক্তের আবেগ, ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা। ফুটবল যে শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, বরং কোটি কোটি মানুষের অনুভূতির অংশ—দেবাশীষ ঘোষের এই সৃষ্টি যেন তারই বাস্তব উদাহরণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, এর আগে মিষ্টি দিয়ে নানা ধরনের শিল্পকর্ম দেখা গেলেও ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে মেসির এমন জীবন্ত প্রতিকৃতি তাঁরা প্রথমবার দেখলেন। কেউ বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি মিষ্টির প্রতিকৃতি নয়, বরং শিল্প ও ক্রীড়ার এক অনন্য মেলবন্ধন। আবার অনেকের মতে, দুর্গাপুরের মতো শিল্পনগরীতে এমন সৃজনশীল উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খোয়া দিয়ে এত সূক্ষ্ম প্রতিকৃতি তৈরি করা মোটেই সহজ কাজ নয়। এর জন্য যেমন দরকার ধৈর্য, তেমনই প্রয়োজন নিখুঁত হাতের কাজ এবং শিল্পীসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি। প্রতিটি অংশ আলাদা করে তৈরি করে সেগুলিকে নিখুঁতভাবে সাজিয়ে তুলতে হয়েছে। ফলে এটি শুধুমাত্র মিষ্টি তৈরির দক্ষতা নয়, বরং এক ধরনের ভাস্কর্য শিল্পেরও পরিচয় বহন করছে। বিশ্বকাপ ফুটবল বরাবরই মানুষের মধ্যে এক অন্যরকম আবেগ তৈরি করে। সেই আবেগকে কেউ প্রকাশ করেন পতাকা টাঙিয়ে, কেউ জার্সি পরে, কেউ বাড়ি সাজিয়ে, আবার কেউ শিল্পের মাধ্যমে। দুর্গাপুরের দেবাশীষ ঘোষ সেই আবেগকে মিষ্টির শরীরে ফুটিয়ে তুলে দেখিয়ে দিলেন, ভালোবাসার ভাষা কখনও একরকম হয় না। বিশ্বকাপের উত্তেজনার এই সময়ে দুর্গাপুরের মামড়া বাজারে তৈরি হওয়া এই মেসির প্রতিকৃতি এখন শুধুমাত্র একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। প্রতিদিন বহু মানুষ ভিড় করছেন এই অনন্য সৃষ্টি একবার চোখে দেখার জন্য। সামাজিক মাধ্যমেও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সেই ছবি। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, মাঠে গোল করে যেমন কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন লিওনেল মেসি, তেমনই দুর্গাপুরের এক মিষ্টি শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় এবার তিনি জায়গা করে নিলেন মিষ্টির শরীরেও। আর এই অভিনব উদ্যোগ আরও একবার প্রমাণ করে দিল—ফুটবল শুধুই একটি খেলা নয়, এটি এক অমলিন আবেগ, যা শিল্পের রঙে, মিষ্টির স্বাদে এবং মানুষের ভালোবাসায় বারবার নতুন করে বেঁচে থাকে।
