দু'দিনের বৃষ্টিতে জলমগ্ন এলাকা, বিপাকে মানুষ

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা শেখ রফিকের অভিযোগ, অল্প বৃষ্টিতেই গোটা এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাটে জমে থাকা নোংরা জল পেরিয়ে মসজিদে যেতে হচ্ছে। শুধু ধর্মীয় উপাসনা নয়, বাজারে যাওয়া, স্কুলে যাওয়া কিংবা জরুরি কাজে বের হওয়াও অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সমস্যার কথা জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্ষা এলেই একই চিত্র ফিরে আসে। কয়েকদিন বৃষ্টি হলেই গোটা এলাকা কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে শুধু যাতায়াত নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। দীর্ঘ সময় ধরে নোংরা জল জমে থাকলে মশার উপদ্রব বাড়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং জলবাহিত রোগের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, বাড়ির সামনে জল জমে থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। অনেক বাড়িতে জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। রান্নাবান্না, বাজার করা কিংবা শিশুদের স্কুলে পাঠানো—সব ক্ষেত্রেই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু অস্থায়ীভাবে জল পাম্প করে সরিয়ে দিলেই হবে না। প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনায় উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত নালা পরিষ্কার এবং নিচু এলাকায় জল বের করে দেওয়ার স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরি করা। বর্ষা শুরু হলেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দেয়। তবে নবগ্রাম মুসলিম পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের এলাকায় এই সমস্যা বছরের পর বছর ধরে একইভাবে রয়ে গেছে। তাই আর সাময়িক সমাধান নয়, তাঁরা চান স্থায়ী ব্যবস্থা। এলাকার মানুষের আশা, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। বিশেষ করে আইসিডিএস কেন্দ্র, মসজিদ এবং আবাসিক এলাকার কথা মাথায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এমন একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে সামান্য বৃষ্টিতেই আর জলমগ্ন না হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই জলাবদ্ধতা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে বর্ষার বাকি সময় আরও বড় সমস্যার মুখে পড়তে হবে। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের শিকার নবগ্রামবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন—কবে মিলবে স্থায়ী জলনিকাশি ব্যবস্থা? কবে বর্ষা এলেই জলবন্দি হওয়ার এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন তাঁরা ? সেই উত্তরই এখন খুঁজছেন এলাকার হাজার হাজার মানুষ।
