আছড়ায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : সালানপুর ব্লকের আছড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতের রাজনৈতিক সংঘর্ষের পর শুক্রবার সকালেও থমথমে পরিস্থিতি। রাতের উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই সকালেই টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন গ্রামবাসীদের একাংশ। এর জেরে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধকারীদের দাবি, বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে পরিকল্পিতভাবে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতেই তাঁরা রাস্তা অবরোধে সামিল হন। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পুলিশ আধিকারিকরা অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধ উঠে গেলেও এলাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকেই আছড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে টহল বাড়ানো হয়েছে যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আছড়া এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই একাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই প্রথম হামলা চালায়। তাঁদের দাবি, তৃণমূল কর্মীদের উপর অতর্কিতে আক্রমণ করা হয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
আছড়ায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ !
সালানপুরে ফের অশান্তি ! সংঘর্ষের প্রতিবাদে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ, চাপে পুলিশ

অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় একাধিক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক দলই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছে। তবে দুই পক্ষের অভিযোগের স্বাধীনভাবে সরকারি যাচাই এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে প্রকৃত ঘটনাক্রম কী ছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, স্থানীয় তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণও খতিয়ে দেখা হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা চান, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনুক। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক মতবিরোধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অংশ হলেও, তা কখনও হিংসার রূপ নেওয়া উচিত নয়। সংঘর্ষের জেরে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। তাই সব পক্ষেরই সংযম দেখানো এবং আইনকে নিজের পথে চলতে দেওয়া প্রয়োজন। এদিকে শুক্রবারের রাস্তা অবরোধের ঘটনাও প্রশাসনের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ, একটি সংঘর্ষের পরপরই যদি প্রতিবাদ কর্মসূচির জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরও তার প্রভাব পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনও গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার আবেদনও জানানো হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন দু’টি—প্রথমত, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা এবং দ্বিতীয়ত, আছড়া এলাকায় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা। তদন্তের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপরও নজর রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে দুই পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে চলেছে পুলিশ।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram