DVC-র সোলার প্যানেল প্রকল্প ঘিরে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ

তাঁদের প্রথম দাবি, প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে ডিভিসির কর্তৃপক্ষকে গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। দ্বিতীয় দাবি, প্রকল্পের ফলে যাঁদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাঁদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের রূপরেখা প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও গ্রামবাসীদের অন্যতম প্রধান দাবি, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে অন্তত একজনকে স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। স্থানীয়দের বক্তব্য, শুধু উন্নয়নের কথা বললেই হবে না। উন্নয়নের সুফল যেমন মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে, তেমনি উন্নয়নের কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাঁদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামবাসীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের দাবির বিষয়ে লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে দেবেন না। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশকর্মী। যদিও দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা থাকলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে প্রশাসন। বিক্ষোভের জেরে সাময়িকভাবে প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ডিভিসির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শিল্প বা পরিকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত, সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং পুনর্বাসনের বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলিতে স্বচ্ছতা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই এমন অচলাবস্থা এড়ানো সম্ভব। একদিকে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও সামাজিক নিরাপত্তা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সিদাবাড়ির এই ঘটনা সেই প্রশ্নকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে। এখন সকলের নজর ডিভিসির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আলোচনার মাধ্যমে কি কাটবে এই অচলাবস্থা? গ্রামবাসীদের দাবির কী সমাধান হবে? নাকি আরও জটিল হবে পরিস্থিতি? সেই উত্তরই মিলবে আগামী কয়েক দিনে।
