বোলপুরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে তালা বিজেপির ! রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র
বীরভূম : বোলপুরে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা। এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের অভিযোগ, পৌরসভার স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্মে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং সেই নির্দেশ তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকেই যাচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার বোলপুর শহরে বিজেপির একদল কর্মী ও সমর্থক মিছিল করে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি প্রতীকীভাবে কার্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং পৌরসভার অচলাবস্থার জন্য তৃণমূল নেতৃত্বকে দায়ী করেন। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, বোলপুর পৌরসভার প্রশাসনিক কাজ দীর্ঘদিন ধরেই স্বাভাবিকভাবে চলছে না। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা পেতে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, পৌরসভার কর্মীদের কাজ না করার জন্য রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং সেই নির্দেশ তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকেই দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল এবং বোলপুরের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম মুখ চন্দ্রনাথ সিনহা। তাঁদের দাবি, এই দুই নেতার নির্দেশেই পৌরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে বিক্ষোভকারীরা কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে তুলে ধরেননি। বিক্ষোভ চলাকালীন বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, পৌরসভার কর্মীরা যদি কোনও কারণে কাজ করতে না চান, তাহলে তাঁদের পদত্যাগ করা উচিত। আর যদি তাঁরা পদত্যাগ না করেন, তাহলে জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁদের পদত্যাগ করানোর ব্যবস্থা করা হবে। এরপর নতুন করে পৌর বোর্ড গঠন করে পৌরসভার স্বাভাবিক পরিষেবা চালু করার দাবিও তোলেন তাঁরা। বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষ রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি, পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে পৌরসভার পরিষেবা ব্যাহত হওয়া উচিত নয়। প্রশাসনিক কাজকে রাজনীতির বাইরে রেখে মানুষের স্বার্থে পরিচালনা করা প্রয়োজন।

বিক্ষোভ চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের সামনে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল। পুলিশের উপস্থিতিতে কোনও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনার পর বিজেপি নেতারা দাবি করেন, তাঁদের আন্দোলন সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ। তাঁরা সাধারণ মানুষের দাবি তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি নিয়েছেন। আগামী দিনেও পৌরসভার অচলাবস্থা দূর না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলির বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দলের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পৃথকভাবে প্রকাশ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বোলপুরে পৌরসভার কাজকর্ম ঘিরে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে পারে। একদিকে বিজেপি প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতিক্রিয়ার দিকেও নজর থাকবে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সাধারণ নাগরিকদের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়। কারণ রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব যদি পৌরসভার দৈনন্দিন কাজে পড়ে, তাহলে তার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হন সাধারণ মানুষ। তাই দ্রুত প্রশাসনিক জট কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। এখন দেখার, বিজেপির এই আন্দোলনের পর প্রশাসন বা তৃণমূল কংগ্রেস কী পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি পৌরসভার কাজকর্ম স্বাভাবিক করতে কোনও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। তবে আপাতত বোলপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হয়েছে, তা বলাই যায়।
