হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ! শ্রীনগরপল্লীতে মরণফাঁদ বিশাল জলাধার

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, জলাধারের সংস্কারের নামে প্রকৃত কাজ না করে শুধু সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা না ভেবে দুর্নীতির মাধ্যমে কাটমানির রাজনীতি করা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, মানুষের জীবন নিয়ে উদাসীন থেকেছে শাসকদল। অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে শাসকদলের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও সাধারণ মানুষের মূল উদ্বেগ একটাই—জীবন ও নিরাপত্তা। প্রশ্ন উঠছে, এত বড় একটি জনবহুল এলাকায় অবস্থিত জলাধারের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা স্ট্রাকচারাল অডিট আদৌ হয়েছে কি? যদি হয়ে থাকে, তাহলে তার রিপোর্ট কী বলছে? আর যদি না হয়ে থাকে, তাহলে কেন এতদিন ধরে এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোকে অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে ? বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো কংক্রিটের জলাধারে ফাটল, লোহার রডে মরচে, কংক্রিট খসে পড়া কিংবা কাঠামো হেলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে জলাধারটি ব্যবহার বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি। কারণ, এমন কাঠামো ভেঙে পড়লে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ হতে পারে। এলাকার মানুষ জানাচ্ছেন, প্রতিদিন তাঁদের সন্তানরা এই জলাধারের পাশ দিয়ে স্কুলে যায়। কর্মজীবীরা যাতায়াত করেন। বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা হাঁটাচলা করেন। অথচ প্রত্যেকের মনেই একটাই ভয়—কখন না আবার মাথার ওপর থেকে কংক্রিটের টুকরো খসে পড়ে, কিংবা কোনওদিন পুরো জলাধারটিই ভেঙে পড়ে। বাসিন্দাদের দাবি, আর আশ্বাস নয়, এবার চাই বাস্তব পদক্ষেপ। অবিলম্বে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে জলাধারের পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাকচারাল অডিট করাতে হবে। যদি সেটি বিপজ্জনক বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে দ্রুত মেরামত অথবা ভেঙে নতুন জলাধার নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে কাজ চলাকালীন এলাকার মানুষের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তুলেছেন তাঁরা। আজ রাজনৈতিক দোষারোপের ঊর্ধ্বে উঠে শ্রীনগরপল্লীর মানুষের একটাই আবেদন—তাঁদের নিরাপদে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করা হোক। কারণ, কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর তদন্ত, ক্ষতিপূরণ কিংবা দায় নির্ধারণে মানুষের হারানো জীবন আর ফিরে আসবে না। এখন দেখার বিষয়, দুর্গাপুর নগর নিগম এবং প্রশাসন এই অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দেয়। মানুষের আশঙ্কা দূর করতে দ্রুত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে, নাকি কোনও বড় বিপর্যয়ের পরেই কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে শ্রীনগরপল্লীর শত শত পরিবার।
